রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভবনের মালিকপক্ষ আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমজানুল হক নিহাদ এবং কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী সোহেল সিরাজ।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান জানিয়েছেন,অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে এবং এতে ২২ জনের দায়দায়িত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন—চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার,আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল,কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান,জেস্টি রেস্টুরেন্টের মোহর আলী পলাশ ও ফরহাদ নাসিম আলীম,ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম খাঁন,মেজবানিখানার লতিফুর নেহার,খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের মুসফিকুর রহমান,পিৎজা ইন-এর জগলুল হাসান,স্ট্রিট ওভেনের আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক,ফুকো রেস্টুরেন্টের আব্দুল্লাহ আল মতিনসহ আরও কয়েকজন।
সিআইডি সূত্র জানায়,দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে দুই আসামি মারা যাওয়ায় এবং আরও দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,সংশ্লিষ্টরা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহারের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।এতে ৪৬ জন প্রাণ হারান,যাদের মধ্যে তিনজনের দেহ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে,ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও নিয়ম ভেঙে আট তলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছিল। ভবনের ১০টি খাবারের দোকানের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। দাহ্য বোর্ড দিয়ে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা করা হয়েছিল,যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।
এছাড়া ভবনে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাব,ছাদে অবৈধ স্থাপনা এবং ছাদে ওঠার পথ বন্ধ করে রাখা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এমনকি আট তলা ও ছাদ মিলিয়ে অবৈধভাবে‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’তৈরি করা হয়েছিল।
তদন্তে জানা যায়, ভবনের নিচতলার ‘চুমুক’কফিশপে একটি বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান ফটকে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন,যাতে বিল পরিশোধ ছাড়া কেউ বের হতে না পারে। এতে বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়ে শ্বাসরোধে মারা যান।এই ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়,যা এখন বিচার প্রক্রিয়ার দিকে চলমান আছে।
