বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিনি মাউশির ডিজির লোক, হাত অনেক লম্বা!’—দাম্ভিক কণ্ঠে চুক্তিভিত্তিক বাড্ডা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঘুষ-দুর্নীতি, এমপিও ফাইল আটকে অর্থ আদায় ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ; সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদককে মামলার হুমকির অভিযোগ—সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ফাইল ছবি

আমি মাউশির ডিজির লোক, আমার হাত অনেক লম্বা। নিউজ হোক আর যাই হোক, আমার কিছুই হবে না—আমার বিরুদ্ধে যারা সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিচ্ছে, তাদের দেখে নেব।

রাজধানীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিমকে ঘিরে ওঠা এমন বিস্ফোরক অভিযোগ এখন গড়িয়েছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে। ঘুষ-দুর্নীতি, এমপিও ফাইল আটকে অর্থ আদায়, নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের প্রভাব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাকিম অধীনস্থ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে আব্দুল হাকিম এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

‘ডিজির লোক’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

সম্প্রতি ‘সমতল মাতৃভূমি’ অনলাইন পোর্টালে আব্দুল হাকিমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে তিনি নিজেকে মাউশির মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার অঞ্চলের ঢাকা জেলা রোভারের আওতাধীন ‘আমরা স্কাউটস গ্রুপ, ঢাকা’-এর প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় ভবনেই বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন শিক্ষকের কাছে আব্দুল হাকিম নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে যতই লেখালেখি হোক, তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক।

একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে তথ্য সরবরাহকারীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের জন্য এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।

‘মুখ খুললেই ক্যারিয়ার শেষ’—শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার ভয় দেখানো হয়।

তাদের দাবি, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অলিখিতভাবে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বক্তব্য দিতে সাহস না পান।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব বিষয়ও তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং নথিপত্র যাচাই করে খতিয়ে দেখবে।

‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ নির্বাচনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রতি বছর ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, শিক্ষা অফিসের আওতাধীন সাতারকুল উচ্চ বিদ্যালয়, বেরাইদ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, ছোলমাইদ স্কুল এন্ড কলেজ, খিলবাড়ির টেক উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের যোগ্য ও দক্ষ প্রধান শিক্ষকদের উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।

বিশেষ করে রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরপর দুইবার ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচিত করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগে ওই প্রধান শিক্ষকের এমপিও স্থগিত রয়েছে। যদিও আব্দুল হাকিম এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত পছন্দে নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সমন্বয় কমিটির অর্থ নিয়ন্ত্রণে ‘দুইজনের আধিপত্য’?

বাড্ডা থানা শিক্ষা অফিসে গঠিত সমন্বয় কমিটির অর্থ ব্যবস্থাপনাকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারাকে অর্থ সম্পাদক করা হলেও তিনি কার্যত ছিলেন নামমাত্র। কমিটির আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের হাতে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মনগড়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা।

তাদের আরও দাবি, আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে হোসনেয়ারাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তবে আব্দুল হাকিম এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের কোনো কমিটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েই তিনি অবগত নন।

এমপিও ফাইল আটকে ‘নিয়োগের শর্ত’ দেওয়ার অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর ছোলমাইদ স্কুল এন্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ফাইল নিয়ে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন এমপিও ফাইল আটকে রাখার পর আব্দুল হাকিম শর্ত দেন—তার ঘনিষ্ঠ অফিস সহকারী সোহেল, তার বোন এবং বোনের স্বামীকে নিয়োগ দেওয়া হলে তবেই এমপিও ফাইল ফরওয়ার্ড করা হবে।

পরিস্থিতির চাপে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ওই নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সময়ের ইএমআইএস (EMIS) সেলের তথ্য, নিয়োগ পরীক্ষার নথি, ফাইলের গতিবিধি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করলেই এ অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।

আব্দুল হাকিম অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, কোনো নিয়োগ তার একক সিদ্ধান্তে হয় না; মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

‘ফাইল নড়ে না টাকা ছাড়া’—কল রেকর্ড ঘিরে প্রশ্ন

আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা বোঝাতে দুই প্রধান শিক্ষকের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে ওই কথোপকথনের একটি অংশে এক শিক্ষক অপরজনকে বলেন—

এমপিও নিয়ে যে কথা বলতে যায়, তারেই শেষ করে হালায় স্যার… আমার স্কুল থেকে কত লাখ টাকা নিছে স্যার এমপিও’র থেকে। প্রতিটা ফাইল পাঠানোর জন্য স্যার কত টাকা করে এমপিও নেয়!

কথোপকথনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ, অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা দেওয়া, পরে সেগুলো অফিসে জমা নেওয়া এবং বই বিক্রির অর্থের হিসাব না দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠে আসে।

এ ছাড়া অফিসে দিনের বেলায় নিয়মিত উপস্থিত না থেকে রাত ৮টা থেকে ১০টা, এমনকি ১১টা-১২টা পর্যন্ত অফিস করা এবং অফিস সহকারী রিপনের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও ওই কথোপকথনে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে কল রেকর্ডটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, বক্তাদের পরিচয় এবং কথোপকথনের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাই এসব বক্তব্যকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

‘সেবা নেই টাকা ছাড়া’—প্রায় এক ডজন শিক্ষকের অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রায় এক ডজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ইএমআইএস সেলের পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে এমপিও, উচ্চতর স্কেল, বিএড স্কেল কিংবা টাইম স্কেল—কোনো ফাইলই টাকা ছাড়া এগোয় না।

এনটিআরসিএ কিংবা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ফাইল প্রেরণের ক্ষেত্রেও অর্থ দাবির অভিযোগ করেছেন তারা।

কয়েকজন শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রধান শিক্ষকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, ফাইলের গতিবিধি, আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

দুদকে মামলার অভিযোগ—কী বলছেন আব্দুল হাকিম?

একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে এবং সেটি চলমান।

তবে আব্দুল হাকিম এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত কয়েকজন অসাধু শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন।

‘সংবাদ প্রকাশ ব্ল্যাকমেইল’—দাবি কর্মকর্তার

তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে আব্দুল হাকিম বলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে মাউশির মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে অংশ নিয়েছিলেন।

নিজেকে ‘ডিজির লোক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ডিজি মহোদয় আমাদের সবার অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে কোনো বিতর্কিত বক্তব্য দেননি দাবি করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও অনুষ্ঠানের ভিডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বাড্ডা থানার অধীন ১৫টি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে বসে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত জবাব দিতে প্রস্তুত।

নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নিয়োগ তার একক সিদ্ধান্তে হয় না। মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ নির্বাচনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, মিজানুর রহমান মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই স্বীকৃতি পেয়েছেন। সমন্বয় কমিটির অর্থ নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

‘প্রমাণ ছাড়া সংবাদ হলে আইনগত ব্যবস্থা’

আব্দুল হাকিম বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ করা হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য একই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। অভিযোগগুলোর তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সামনে আলোচনা করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

ভবিষ্যতে প্রমাণ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মাউশির ডিজির নির্দেশে তদন্ত—গঠন করা হলো তিন সদস্যের কমিটি

আব্দুল হাকিম নিজেকে মাউশির মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন—এমন অভিযোগসহ প্রকাশিত নিউজের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত এবং এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এসইসিপ (SESIP) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে রয়েছেন—

অধ্যাপক মিনারউদ্দিন আহমেদ — সহকারী পরিচালক-১ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর — সভাপতি

মো. খায়েদুল আলম — সহকারী পরিচালক-১ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর — সদস্য

মো. মিজানুর রহমান — সহকারী পরিচালক-১ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর — সদস্য সচিব

প্রকাশিত নথিতে কমিটিকে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘তদন্ত শুরু হয়েছে’—এসইসিপ প্রকল্পের বক্তব্য

এ বিষয়ে এসইসিপ প্রকল্পের যুগ্ম পরিচালক (পিডি অ.দা.) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালকের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি বিধিমালা ও সার্ভিস রুল অনুযায়ী শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত বা শাস্তি দেওয়া যায় না। অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পরই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যথাযথ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

অভিযোগ বনাম অস্বীকার—এখন নজর তদন্ত প্রতিবেদনে

একদিকে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের একটি অংশের অভিযোগ—ঘুষ, এমপিও ফাইল আটকে অর্থ আদায়, নিয়োগে প্রভাব বিস্তার, পছন্দের ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাড্ডা থানা শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার করছেন আব্দুল হাকিম।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি—এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে কয়েকজন অসন্তুষ্ট ও বিতাড়িত শিক্ষকের ষড়যন্ত্র।

এখন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ফাইল, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, আর্থিক লেনদেন, ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য কতটা যাচাই করতে পারে—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; আবার অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে সেটিও স্পষ্ট হবে।

ফলে বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে ঘিরে ওঠা দীর্ঘদিনের অভিযোগের আড়ালে আসলে কী রয়েছে—তার উত্তর এখন অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।