বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেজগাঁও গণপূর্তে ‘অঘোষিত সম্রাট’ জাহাঙ্গীর আলম: সাম্প্রতিক দুদকের জালে বন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ২:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তেজগাঁও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের ভাষ্যে, “মাত্র দুই বছরে সরকারি চাকরি করে শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এক ‘অঘোষিত সম্রাট’।”

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে অনিয়ম, দলীয় প্রভাব ও প্রকল্পে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ, ভুয়া বিল, টেন্ডার-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে দুদক ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

টেন্ডার ও বিল-বাণিজ্যের অভিযোগ : জিগাতলা প্রকল্পের ১,০০০ বর্গফুটের দুটি ভবনের ৮ কোটি টাকার কাজের বিল ঠিকাদার মাহবুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে আঁতাত করে ভাগাভাগি করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের অর্ধেকও না হওয়ার পরও পুরো বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিছু বিল নথিতে “বস্ক/অনুপস্থিত স্বাক্ষর” পাওয়া গেছে।এক কর্মকর্তা বলেন—“প্রকৃত কাজের অর্ধেকও হয়নি, তবু পুরো বিল হয়েছে।”

গ্লাস টাওয়ারে লাইটে অতিরিক্ত বিল : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ারে ব্যবহৃত লাইটের দাম বাজারমূল্যের তিনগুণ দেখানো হয়েছে। এনার্জি গ্লাস কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে ৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন—“প্রতিটি লাইটের বাজার দাম ১ হলে দেখানো হয়েছে ৩, আর বাড়তি অর্থ সিন্ডিকেটের পকেটে গেছে।”

দাপ্তরিক স্বাক্ষর ছাড়াই বিল ও ‘জাহাঙ্গীর-মডেল’ উপ-বিভাগ ৪-এর কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দাপ্তরিক স্বাক্ষর ছাড়া বিল অনুমোদন করা হয়েছে। একই ব্যক্তি প্রাকলন প্রস্তুত এবং যাচাই—দুই দায়িত্বই পালন করায় অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রায়েরবাজার বদ্ধভূমি উপকেন্দ্র ও ঝিগাতলা প্রকল্পেও স্বাক্ষরবিহীন বিল প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

নিয়োগ ও বেতন কেলেঙ্কারি…..রাজশাহীর ‘নেটওয়ার্ক’ ব্যবহার করে স্বজন-কেন্দ্রিক নিয়োগ এবং দায়িত্বরত হিসাবসহকারী বা বড়বাবুর জায়গায় ঠিকাদারের লোক দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। অনেক কর্মীকে কাজ ছাড়া দ্বিগুণ বেতন দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কাজেও নিম্নমান এবং সময়মতো ডেলিভারি না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এ কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

অবৈধ সম্পদ ও প্রমোশন….২০১২–১৬ সালে নিয়মিত ডিউটি না করেও বেতন উত্তোলন, দ্রুত প্রমোশন এবং সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—এই অভিযোগও রয়েছে। সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুরে আলিশান বাড়ি, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে রিসোর্ট/ফ্ল্যাট, মিরপুরে ৬ তলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে কোটি টাকার এফডিআর, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ব্র্যান্ড নিউ লেক্সাস হ্যারিয়ার গাড়ি।এসব অনিয়মের অভিযোগ ব্যাপকভাবে চাউর হলে তরিঘড়ি করে রাজশাহীতে পোস্টিং দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে রাজশাহীতে ডিউটি না করে অবসর ছুটি নিয়ে ঢাকায় সময় কাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অদৃশ্য ইশারায় আটমাসের মাথায় ঢাকা অফিসে যোগদান করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্দোলন দমনে অর্থ সহায়তা……গত জুলাইয়ে রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছে।

দুদকের অনুসন্ধান……

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান চলছে। প্রয়োজনে সম্পদ জব্দ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা এবং মানি–ট্রেইল অনুসন্ধান করা হবে। সচেতন মহল দাবী করছে—“অভিযোগ গুরুতর হলে কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি প্রকল্প ব্যক্তিগত লুটের মেলায় পরিণত না হয়।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ