রাজশাহীতে দূর্বৃত্তের আগুনে সাতটি গবাদিপশু পুড়ে ছাঁই। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে দূর্বৃত্তের আগুনে বসতবাড়ির সাতটি গবাদিপশু আর দুটি খড়ের পালা পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তানোর সদরের কলেজপাড়া ও সিন্দুকাই মহল্লায় এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পৃথক এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ লাক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এ নিয়ে তানোর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও প্রতিবেশি সূত্রে জানা গেছে, তানোর সদরের কলেজপাড়া এলাকায় মৃত গোফ্ফার প্রামাণিকের মেয়ে বানেসা বানু (৫৩) ছোট একটি বাড়িতে কাজের পাশাপাশি দুটি গাভি ও পাঁচটি ছাগল পালন করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বানেসা বানু ঘুম থেকে জেগে ঘরে আগুন দেখে বাইরে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুনে বানেসা বানুর শরীরের প্রায় ২৫ ভাগ পুড়ে যায়। এছাড়াও বসতবাড়ি, দুটি গরু ও পাঁচটি ছাগল পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে তার চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
তবে, গোয়াল ঘরে মশার কয়েলের আগুনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করেছেন প্রতিবেশি আব্দুর রাহীম।
একই দিন রাতে তানোর পৌর এলাকার সিন্দুকাই মহল্লার বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামালের প্রায় ৭ বিঘা জমির খড়ের পালা ও মো. তামেজ শাহর (তাবি) প্রায় ৬ বিঘা জমির খড়ের পালায় দূর্বৃত্তরা আগুন দেয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যাওয়ার আগেই বেশির ভাগ খড় পুড়ে গেছে। এতে তাদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মোস্তফা কামাল জানান।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান বলেন, আগুনে বসতবাড়ির সাতটি গবাদিপশু আর দুটি পৃথক খড়ের পালা পুড়ে গেছে। এসব ঘটনা নিয়ে অভিযোগের পরে তদন্ত শুরু হয়েছে। সত্যতা প্রমানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একইদিন রাতে উপজেলার পৃথক তিনস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলেও তিনি জানান।
