প্রতিদিনের মতো আসরের নামাজ পড়তে কুষ্টিয়ার কুমারখালী বড় জামে মসজিদে গিয়েছিলেন শাহিন হোসেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে কুমারখালী সরকারি কলেজের পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
খবর পেয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি ফায়ার সার্ভিস। সোমবার সকালে দ্বিতীয় দিনের অভিযানে নেমে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শাহিন (৬০) কুমারখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।
শাহিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। ব্রেইনে সমস্যাসহ চোখেও কম দেখতেন। তিনি প্রতিদিনের মতো রোববার বিকেলে আসরের নামাজ পড়তে কুমারখালী বড় জামে মসজিদে গিয়েছিলেন। মাগরিবের নামাজের পরও বাড়ি না ফিরলে পরিবারের সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কলেজের পুকুরে তার স্যান্ডেল ভাসতে দেখা যায়। সকালে ওই পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তার ভাষ্য, তার স্বামী তাবলিগ জামায়াত করতেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। পুকুরে পড়ে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় তার কোনো অভিযোগ নেই।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইন্দ্রপ্রসাদ বিশ্বাস জানান, ভেসে থাকা স্যান্ডেলের সূত্র ধরে রোববার রাতে কুমারখালী সরকারি কলেজের পুকুরে অভিযান চালানো হয়। পরে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, স্বজন ও এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
