শুক্রবার, ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নামাজঘরের পাশে মাদক-জুয়া! প্রতিবাদ করতেই রক্তাক্ত ছাত্র,—সন্ত্রাসের দাপটে আতঙ্কিত পুরো এলাকা

গাজীপুর প্রতিনিধি
মার্চ ১৯, ২০২৬ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কৃষকদল নেতার হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রক্তাক্ত ছবি টিডিসি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর যেন এক অদৃশ্য আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। নামাজের পবিত্র পরিবেশের পাশেই চলছে মাদক সেবন, জুয়া আর অসামাজিক কর্মকাণ্ডের মহড়া—আর সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই রক্তাক্ত হতে হলো এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীফপুর খানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছত্রছায়ায় কেরাম বোর্ডের আড়ালে প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদক সেবন চলছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—এই অপকর্মের ঠিক পাশেই নারীদের তারাবির নামাজ আদায়ের স্থান। ফলে প্রতিদিনই হট্টগোল, অশালীন আচরণ আর বিশৃঙ্খলায় বিঘ্নিত হচ্ছিল ধর্মীয় ইবাদত।

বারবার প্রতিবাদ করেও যখন কোনো প্রতিকার মিলেনি, তখন এলাকাবাসী আবারও বাধা দেয়। আর তাতেই ঘটে যায় রক্তাক্ত ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মো. আমিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, জুয়া ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ চালিয়ে আসছে। তার সঙ্গে রয়েছে তার দুই ছেলে সজিব ও প্রান্তসহ একদল সহযোগী, যারা এলাকাজুড়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আধিপত্য বিস্তার করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবাদের জেরে হঠাৎ করেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাহি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হয় নৃশংস হামলা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানো—মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাহি সরকারকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথা, হাত ও পায়ে গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম চালালেও কেউ যেন তাদের থামাতে পারছে না।

এদিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস, মাদক বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কার্যক্রমই বরদাশত করা হবে না। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পবিত্র নামাজের পরিবেশে এমন ন্যক্কারজনক অপকর্ম ও হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—ধর্মীয় অনুভূতির নিরাপত্তা কোথায়? আর কতদিন সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি থাকবে সাধারণ মানুষ?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।