শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলে? বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সংগৃহীত

নারীদের নিয়ে প্রচলিত একটি পুরোনো ধারণা রয়েছে যে তারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি কথা বলেন। কিন্তু আসলেই কি তাই? এই প্রচলিত ধারণার সত্যতা যাচাই করতে একটি ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করেছেন গবেষকরা। আর তাতে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—জীবনের একটি নির্দিষ্ট বয়সে নারীরা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কথা বলেন।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কলিন টিডওয়েল জানান, সমাজে নারীদের বেশি কথা বলার যে প্রচলিত ধারণা বা প্রথাগত অনুমান রয়েছে, তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতেই তারা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন।

গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য

এর আগে ২০০৭ সালে এ বিষয়ে একটি গবেষণা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল নারী ও পুরুষ প্রতিদিন প্রায় সমপরিমাণ শব্দই (প্রায় ১৬,০০০ শব্দ) উচ্চারণ করেন। তবে এবারের গবেষণার পরিধি ছিল অনেক বড়। ৪টি দেশের প্রায় ২,১৯৭ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ১৪ বছর ধরে এই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের শরীরে বিশেষ এক ধরনের ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং ডিভাইস পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তের ছোট ছোট কথপোকথনের অডিও ক্লিপ রেকর্ড করত। মোট ৬,৩১,০৩০টি পরিবেষ্টিক অডিও ক্লিপ পরিসংখ্যানগত মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নতুন এই উপাত্তে আগের গবেষণার চেয়ে অনেক সূক্ষ্ম বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত—অর্থাৎ প্রারম্ভিক থেকে মধ্যবয়সে নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রতিদিন ৩,২৭৫টি শব্দ বেশি ব্যবহার করেন, যা সময় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিনিট বেশি কথা বলার সমান।

জীবনের বাকি বয়সগুলোতে অবশ্য নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি।

কেন এই বয়সে নারীরা বেশি কথা বলেন?

গবেষকরা বলছেন, এই পার্থক্যের পেছনে মূল কারণ কী, তা ডেটা থেকে সরাসরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের ধারণা, এর পেছনে ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে মায়েরা বেশি সময় কথা বলা বা আড্ডা দেওয়া একটি কারণ হতে পারে; কারণ সামাজিকভাবে সন্তান লালন-পালনের বেশিরভাগ দায়িত্বের ভার সাধারণত নারীদের ওপরই থাকে।

গবেষকদলের আরেক মনোবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস মেহল জানান, যদি এর পেছনে হরমোনের মতো কোনো জৈবিক কারণ থাকত, তবে বয়ঃসন্ধি পার হওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও বড় ধরনের লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য দেখা যেত।

আবার যদি সামাজিক ও প্রজন্মের পরিবর্তন প্রধান চালিকাশক্তি হতো, তবে বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে এই ব্যবধান বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু গবেষণায় এর কোনোটিই দেখা যায়নি।

ব্যক্তিভেদে বড় তারতম্য ও স্ক্রিনটাইমের প্রভাব

লিঙ্গভেদে পরিসংখ্যানগত নিয়ম মেনে না চলার বহু উদাহরণও এই গবেষণায় মিলেছে।

উভয় লিঙ্গেই চরম কথা বলা ও খুবই কম কথা বলার মানুষ পাওয়া গেছে। যেমন—সবচেয়ে কম কথা বলা অংশগ্রহণকারী ছিলেন একজন পুরুষ, যিনি দিনে মাত্র ৬২টি শব্দ বলতেন। আবার সবচেয়ে বেশি কথা বলা অংশগ্রহণকারীও ছিলেন একজন পুরুষ, যিনি দিনে ১২৪,১৩৪টি শব্দ বলতেন!

অর্থাৎ তিনি যদি দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তবে বাকি জেগে থাকা প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩০টি শব্দ উচ্চারণ করতেন।

পাশাপাশি, গবেষণায় আরেকটি মজার বিষয় উঠে এসেছে—বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কথা বলার সামগ্রিক পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো মানুষের স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল-কম্পিউটারে সময় কাটানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।

গবেষকরা মনে করেন, এই ফলাফলের পরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে আরও গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, মানুষের শারীরিক কার্যকলাপ বা ঘুমের মতোই সামাজিকতা বা মেলামেশাও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আচরণ। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তা ভালো স্বাস্থ্যের পথকে আরও সুগম করে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।