কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছএগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ও শিহরণ জাগানো ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা। নিষ্পাপ এক কিশোরী, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জিম খাতুন (১২)—যে সকালে স্বপ্নভরা চোখে বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেরিয়েছিল, সে-ই সন্ধ্যার আঁধারে ফিরে এল অচেতন, নিথর এক দেহ হয়ে।
জিম, মির্জানগর গ্রামের মুস্তাকের মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়। হাসি-আনন্দে ভরা সেই অনুষ্ঠান শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা যখন একে একে বাড়ি ফিরছিল, তখন অজানা এক অন্ধকারে হারিয়ে যায় জিমের পদচিহ্ন।
সন্তান না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার শুরু করে মরিয়া খোঁজাখুঁজি। সময় গড়ায়, উদ্বেগ রূপ নেয় আতঙ্কে। অবশেষে রাত প্রায় ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে, সে প্রথমে অস্বীকার করে—“স্কুলে কেউ নেই”—এমন উত্তরেই যেন আরও গভীর হয় রহস্যের ছায়া। চাবি দিতেও তার অনীহা স্থানীয়দের মনে জাগায় তীব্র সন্দেহ।
একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়ে, গ্রামবাসী জোর করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। নিস্তব্ধ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে মিলে যায় সেই ভয়ংকর দৃশ্য—মেঝেতে পড়ে আছে জিম খাতুন, অচেতন, অসহায়! তার মুখ টেপ দিয়ে বাঁধা—একটি নির্মম, হৃদয়বিদারক চিত্র, যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে কাঁপন ধরায়।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। এদিকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মিরপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে বিস্তারিত জানা যাবে।
একটি নিষ্পাপ দিনের শেষটা কেন এমন ভয়ংকর হয়ে উঠল? কে বা কারা জড়িত এই নির্মম ঘটনার পেছনে?—এসব প্রশ্ন এখন পুরো এলাকাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। জিমের নীরব, অচেতন দেহ যেন নিঃশব্দে বলে যাচ্ছে—এই রহস্যের জট খুলতেই হবে।
