ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যখন সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা আর সতর্ক নজরদারি, ঠিক তখনই রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর এক অনিয়মের ঘটনা। টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে ৩৩০ জনকে অবৈধভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে তাদের সবাইকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাহিনী জানায়, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিদের তালিকায় ঢুকিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়—দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার নামে পরে জনপ্রতি আরও ১ হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ নেওয়ার তথ্যও সামনে আসে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত—অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত ৩৩০ জনকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি। তবে অভিযুক্ত দলনেতা মামুন এখন পলাতক, তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র–শুধু রাজধানী নয়, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায়ও ১৩ জন প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তি নির্বাচনী দায়িত্ব পান। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ– রাজধানীর গুলশানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারের বিরুদ্ধেও উঠেছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাদেরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আগে এমন অনিয়মের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে। তবে আনসার কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না—দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালনের আগে এই ‘টাকা-কেলেঙ্কারি’ যে বড় এক বার্তা দিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
