মূল অভিযুক্ত বিথী আক্তার ছবি: ফাইল
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রী উধাও হওয়ার পর উল্টো স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কালকিনি থানার উত্তর রমজানপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী নাঈম হাওলাদারের সঙ্গে ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার আইরকান্দি গ্রামের শহীদ ফকিরের মেয়ে বিথী আক্তারের। বিয়ের সময় কাবিন নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিয়ের কিছুদিন পর ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পুনরায় কর্মস্থল সৌদি আরবে ফিরে যান নাঈম। এরপর থেকেই স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায় বলে অভিযোগ স্বামীর পরিবারের।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ সকাল ১০টার দিকে খালাতো বোনের বিয়েতে যাওয়ার কথা বলে শাশুড়ির কাছে থাকা প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বের হন বিথী আক্তার। একইসঙ্গে তিনি নিজের কাপড়চোপড়, প্রসাধনী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বড় একটি লাগেজে ভরে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেননি।
স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা একাধিকবার ফোন করে তাকে বাড়ি ফিরে আসতে বললেও তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। বিষয়টি তার বাবা-মাকেও জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
কিছুদিন পর বিথীর পরিবার থেকে নাঈমের পরিবারকে জানানো হয়—বিথী আর স্বামীর সংসার করবে না। এমনকি তারা জানান, সময়মতো কাগজপত্র পেয়ে যাবেন।
এদিকে নাঈমের পরিবার দাবি করেছে, বিথীর কাছে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার (বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা) এবং লক্ষাধিক টাকার অন্যান্য সামগ্রী আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা থেকেই তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর বিথী আক্তার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাঈম হাওলাদার, তার বাবা মিজান হাওলাদার, ভাই আফিফ হাসান কাউসার এবং বোন মিতু বেগমের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কদমতলী থানার আমলি আদালত-২০ এ দায়ের করা হয় (মামলা নং ৮৮২/২০২৫)।
এদিকে এ ঘটনায় মিথ্যা মামলার কারণে প্রবাসে থাকা নাঈম হাওলাদার দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। তাদের দাবি, মামলার ভয় দেখিয়ে কাবিনের টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী নাঈমের ছোট ভাই আফিফ হাসান কাউসার গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলার মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অব্যাহতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একখানা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, আইন সচিব, আইজিপি ও ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিথী আক্তার ও তার পরিবার পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ সাজিয়ে মামলা করে তাদের হয়রানি করছে। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিথী আক্তার ও তার বাবা শহীদ ফকির প্রতিবেদকের কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অপরদিকে আফিফ হাসান কাউসার দাবি করেন, মামলার আরজিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই মিথ্যা মামলা আদালতে দীর্ঘায়িত করে রাষ্ট্রের সময় ও অর্থ নষ্ট করা উচিত নয়।
দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি এখন তদন্তসাপেক্ষ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে পুরো ঘটনার পরিষ্কার চিত্র সামনে আসবে।
