সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

তাবাসসুম স্নেহা
জুন ৭, ২০২৬ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আদালতে তোলার সময় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই মামলায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

এদিন সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয় এবং পরে এজলাসে তোলা হয়।

বেলা ১১টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। টানা ৩৩ মিনিট রায় পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় শোনার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোহেল ও স্বপ্না।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ। এ সময় ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকীসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

যে হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসার ফ্ল্যাট থেকে স্কুলপড়ুয়া আট বছরের শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক তথ্য।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। এরপর হত্যার নির্মমতা আড়াল করতে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ঘটনার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলেই ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

নজিরবিহীন দ্রুততায় বিচারকাজ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।

আলোচিত এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে অভিযোগপত্র জমার দিনই মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

এরপর একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। গত বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন, বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও নৃশংস শিশু হত্যা মামলার বিচারিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।