যশোরের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পাঁচ আগস্টের আগের সরকার আমাদের পুলিশ বাহিনীকে দলীয় বাহিনী বানিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নিপীড়নের হাতিয়ার বানিয়েছিল। এখন আর সেই কাজ করানো যাবে না। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ দেশ গড়তে পুলিশ কাজ করবে।
তিনি বলেন, যশোরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা করণীয় আপনারা আমাদের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, সহযোগিতা করেন- অবশ্যই এই জেলাকে সবার বাসযোগ্য করতে পারব।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।
সভায় উত্থাপিত যশোরের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আমরা শহরের সব খবর পাই না। কিন্তু এই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোথায় কী ঘটছে, সবই আপনাদের নখদর্পণে। আপনারা যদি আমাদের সেইসব তথ্য সরবরাহ করেন, অবশ্যই সেগুলো নির্মূলে অবশ্যই কাজ করবো। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এসব ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশে পুলিশবাহিনী অনেকটাই অবহেলার শিকার। আমাদের পুলিশকে সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের কারও কারও বক্তব্য কিছুটা রুক্ষ হতে পারে। আপনারা সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সাব-ইন্সপেক্টর, এএসপি বা আমাদের লেভেলের অফিসারদের সঙ্গে কথা বলবেন। আমরা নিশ্চয়ই সেই ধরনের ব্যবহারে অভ্যস্ত নই।
তিনি যশোরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা করবেন জানিয়ে বলেন, এই শহরকে সন্ত্রাসমুক্ত, অস্ত্রবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত, কিশোর গ্যাং, যানজটমুক্ত, চুরি-ছিনতাইমুক্ত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ কাজ করবে। সে ক্ষেত্রে আপনারা ছাড়াও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে, এই জেলাকে বাসযোগ্য করা অসম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সিনিয়র সাংবাদিক ফারাজী সাঈদ আহমেদ বুলবুলসহ যশোরের কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
