শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশের নতুন ইউনিফর্মে আগ্রহ মাত্র ০.৮৪%, পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান ৯৬% সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৫, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্ধারণ করা নতুন ইউনিফর্ম পরতে আগ্রহী মাত্র ০.৮৪ শতাংশ পুলিশ সদস্য। বিপরীতে বাহিনীর ৯৬.৫৭ শতাংশ সদস্য আগের পোশাকে ফিরে যেতে চান। আর বর্তমান বা আগের কোনোটি নয়, একেবারে নতুন ডিজাইনের ইউনিফর্ম চান ২.৫৯ শতাংশ সদস্য।
পুলিশের পোশাক নিয়ে পরিচালিত এক অভ্যন্তরীণ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা ও দাবি জোরালো হয়। এর প্রেক্ষাপটেই সারাদেশে পুলিশ সদস্যদের মতামত জানতে এই জরিপ চালানো হয়।

গত শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে তিনটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়—কত শতাংশ সদস্য আগের পোশাক চান, কতজন বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট এবং কতজন একেবারে নতুন ইউনিফর্ম চান। নিজ নিজ ইউনিটের সদস্যদের মতামত সংগ্রহ করে সোমবারের মধ্যে সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস আগে পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনে। তবে নতুন এই পোশাক নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই তড়িঘড়ি করে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ইউনিফর্ম নিয়ে বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যদের মতামত জানা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যে পোশাকের পক্ষে মত দেবেন, সেটিই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সময় তাদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, নতুন লৌহ (আয়রন) রঙের ইউনিফর্ম অনেকটা অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাতে দায়িত্ব পালনের সময় এটি সহজে দৃশ্যমান হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাকের সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়। এছাড়া দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে এই পোশাক পুরোপুরি উপযোগী নয় বলেও তারা মনে করছেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেকটা তড়িঘড়ি করেই পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়। এতে একজন উপদেষ্টা এবং পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। পরে দরপত্র আহ্বান করে প্রায় ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার কাজ দেওয়া হয় নোমান গ্রুপকে। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের বছরে সরকারিভাবে পাঁচ সেট ইউনিফর্ম দেওয়া হয়। প্রায় ২১ বছর পর পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ, র‍্যাব ও অঙ্গীভূত আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হলেও সমালোচনার মুখে র‍্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাকে আর পরিবর্তন আনা হয়নি।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে দেশের মহানগর এলাকায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা লৌহ রঙের নতুন ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়েও তা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া এবং মাঠপর্যায়ের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
বিবৃতিতে পুলিশের ইউনিফর্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তৎকালীন সরকার পুলিশের পোশাক নির্ধারণ করেছিল। সে সময় দেশের আবহাওয়া, দিনে ও রাতে দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমানতা, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকা—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং তারা আগের ইউনিফর্মকেই বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।