স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা এক বীর মুক্তিযোদ্ধা—আজ নিজ জন্মভূমিতেই রক্তাক্ত! মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান (নাঈম) (৭২)। শান্ত একটি সালিশ বৈঠক মুহূর্তেই পরিণত হয় রক্তাক্ত বিভীষিকায়, যেখানে মানবতা হার মানে বর্বরতার কাছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জমি মাপজোখ নিয়ে চলছিল সালিশ—একটি সাধারণ বিরোধের সমাধান খোঁজার চেষ্টা। কিন্তু সেই শান্ত পরিবেশে হঠাৎই নেমে আসে অশান্তির কালো ছায়া।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশ চলাকালীন সময়েই ছাত্রলীগ ক্যাডার তুহিনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল আশপাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা নাঈম একা মহাসড়কের পাশে গেলে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয় তার ওপর। রড দিয়ে পিটিয়ে, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়—রক্তে ভিজে যায় চারপাশ।
জানা যায়, হামলাকারী তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল এই বীর মুক্তিযোদ্ধার। সেই শত্রুতার আগুনই যেন এদিন ভয়াবহ প্রতিশোধে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানান, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে, মাথার পেছনে গভীর কোপের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রক্তাক্ত অবস্থায়ও কাঁপা কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা নাঈম বলেন,
“আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাকে ঘিরে ধরে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। অভিযুক্ত তুহিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি—নীরবতা যেন আরও রহস্য ঘনীভূত করছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশ্নও- থেকে যায়, একজন মুক্তিযোদ্ধা—যার হাত ধরে এসেছে স্বাধীনতা, আজ সেই হাতই ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ যেন শুধু একটি হামলা নয়, এটি ইতিহাসের ওপর আঘাত, মানবতার বুকে ক্ষত। এখন সময়—ন্যায়বিচারের, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।
