মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের বৈষম্যের দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের: শিক্ষামন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
নভেম্বর ২, ২০২৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নায়েমে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগের পর চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোনো ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই সরাসরি শিক্ষকতায় পাঠানো হয়। এ বৈষম্যের দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অন্য ক্যাডারের মতো একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ পান না। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারে তা না থাকায় শুরু থেকেই বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়ন না করে তাদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।

শিক্ষা ক্যাডারে পদায়নের ক্ষেত্রে তদবির গ্রহণ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তদবির করে ঢাকায় পদায়ন হলে মেধার মূল্যায়ন থাকে না। পদায়ন ও মূল্যায়ন হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। শ্রেণিকক্ষে যারা ভালো পড়াবেন, তারাই পুরস্কৃত হবেন। কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের তদবিরে কাউকে পদায়ন করা হবে না।

শিক্ষা কমিশন গঠনেও অনাগ্রহের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিশনের সদস্যরা অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের জ্ঞান অর্জন করেছেন। কিন্তু প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই আপাতত শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চান না তিনি।

শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি প্রযুক্তির সহায়তায় পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে যত আলোচনা হয়, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে ততটা হয় না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শিখবে– এমন ধারণার বাইরে গিয়ে এসব স্তরের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা খান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।