বিশ্বকাপের টিকিট আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। এবার মাঠের পারফরম্যান্সে যেন সেই অর্জনের উৎসবই করল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। নেপালের কীর্তিপুরে স্কটল্যান্ড নারী দলকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে রানের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের তৃতীয় সর্বোচ্চ জয়। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচ ও সুপার সিক্সে দুই ম্যাচ—সব মিলিয়ে বাছাইপর্বে অপরাজেয় যাত্রা অব্যাহত রাখল বাংলাদেশ।
🏏 ব্যাটিংয়ে ঝড়, নেতৃত্বে অধিনায়ক জ্যোতি
নেপালের কীর্তিপুরের ত্রিভুবন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ইনিংসের গতি।
দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ৬৭ রান। দিলারা ৩৯ ও জুয়াইরিয়া ২২ রান করে ফিরলেও শুরুটা ছিল শক্ত ভিতের।
তিনে নামা শারমিন আক্তার সুপ্তা (১৫) বেশিক্ষণ টিকতে না পারলেও চতুর্থ উইকেটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি।
মাত্র ৩৫ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫৬ রান করেন নিগার। অন্যদিকে সোবহানা মোস্তারি খেলেন মাত্র ২৩ বলে ৪৭ রানের এক বিধ্বংসী ‘টর্নেডো’ ইনিংস। তাদের ১০০ রানের জুটিতে স্কটিশ বোলাররা পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ১৯১ রান—টি-টুয়েন্টিতে যা বাংলাদেশের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
বোলিংয়ে মারুফার ঝড়—- ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে স্কটল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন মারুফা আক্তার। এরপর একে একে ভাঙতে থাকে স্কটিশ ব্যাটিং লাইনআপ।
মারুফার গতির সঙ্গে যোগ দেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়িয়ে দেন। স্কটল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন পিপা স্প্রাউল।
শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেললেও ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০১ রান তুলতে পারে স্কটল্যান্ড। ফলে ৯০ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
📊 রেকর্ডের পাতায় বাংলাদেশ
টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ২৫৫ রান। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপকে মাত্র ৬ রানে অলআউট করে সেবার রেকর্ড ২৪৯ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
২০২৪ নারী এশিয়া কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১৯১ রান তুলে ১১৪ রানে জয় ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধান।
এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই আরেকটি শক্ত প্রমাণ।
