নাসরিনের বিপক্ষে বিকেএসপির গোল উদযাপন। ছবি: বাফুফে
প্রায় দেড় বছর পর মাঠে ফিরেছে নারী ফুটবল লিগ। সোমবার পৌষের কনকনে ঠাণ্ডায় কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীন সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পোর্টিং ক্লাব এবং বাংলাদেশ পুলিশ এফসি।
উত্তাপের আভাস দেওয়া ম্যাচে পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সেনাবাহিনী। দুই গোলই করেছেন তনিমা বিশ্বাস। তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো ‘সিউ’ উদযাপন করতে দেখা যায়।
কমলাপুরে একই স্টেডিয়ামে অপর ম্যাচে বিকেএসপি ফুটবল ক্লাব ৮-০ গোলে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিতে হারিয়েছে।
প্রথম ম্যাচে ১২ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে পুলিশ এফসি। সাগরিকা বক্সের কোণে বল পেয়ে জোরের ওপর শট নিলেও তা আটকে দেন সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক মিলি আক্তার। এরপর দুই দল বল টেনে মাঝমাঠে উঠতেই আবার বল হারিয়ে বিক্ষিপ্ত ফুটবল খেলতে থাকে। এর মধ্যে ৪০ মিনিটে দূর পাল্লার শটে গোল করেন বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা সেনাবাহিনীর ফুটবলার তনিমা। তার নেওয়া শটটি পুলিশের গোলকিপার তাসলিমার গ্লাভস গলে জালে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরার চেষ্টা করা পুলিশ ৫৬ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে। সাবিনা খাতুন রুবি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল চিপ করেন। গোলমুখ থেকে তা বিপদমুক্ত করেন সেনাবাহিনীর ডিফেন্ডার রুমা আক্তার। সমতায় ফেরার সুযোগ হারিয়ে ৭০ মিনিটে পুলিশ দ্বিতীয় গোল হজম করে। ওই গোল করে ‘সিউ’ উদযাপন করেন তনিমা।
দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকে কর্তৃত্ব করে খেলতে থাকা বিকেএসপি ২২ মিনিটে প্রথম লিড নেয়। ১১ মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে ৩-০ গোলের লিডে প্রথমার্ধ শেষ করে বিকেএসপি। গোল তিনটি করেন যথাক্রমে আইরিন খাতুন, আলমিনা ও অয়ন্ত বালা মাহাতো। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫ মিনিটে প্রতিমা মুন্ডা চতুর্থ গোলটি করেন। বিকেএসপি পরের সময়ে আরও চার গোল পায়। এর মধ্যে ফাহিমা ফাতুন ৮৩ ও ৮৭ মিনিটে জালে বল পাঠান। অন্য গোল দুটি করেন রিয়া ও উম্মে কুলসুম।
তনিমা উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথম গোলটি তার দল সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করেছেন। রোনালদোর মতো উদযাপনের রহস্যও জানিয়েছেন, ‘প্রথমটি আমার জন্য স্মরণীয় গোল। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করছি। গত লিগে সাত গোল করেছিলাম। এবার বেশি গোল করতে চাই। রোনালদোর মতো আমার জার্সি নম্বর ৭। তার উদযাপন দেখেই করেছি। বিকেএসপিতে টার্ফে ৫-৬ দিন অনুশীলন করেছি, সিনিয়রদের সঙ্গে খেলায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
