ছবি: বিবিসি
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামার আগেই যেন অনিশ্চয়তার এক ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে ইরান। ‘বৈরী’ বিবেচিত দেশগুলোতে খেলোয়াড় পাঠানোয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়,যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণে।
সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যেসব দেশে ইরানি খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়—সেসব মাটিতে জাতীয় দল কিংবা ক্লাবের অংশগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এই অবস্থায় বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। কারণ, আসন্ন আসরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে—যেখানে খেলতে যেতে অনাগ্রহী ইরান।
তবে থেমে নেই তেহরান। বিকল্প পথ খুঁজে ইতোমধ্যে তারা তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। জানা গেছে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন—যেন কূটনৈতিক দূরত্বের মাঝেও ফুটবল খুঁজছে নতুন আশ্রয়।
এরই মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন—ইরান চাইলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে, তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় সেটি ‘উপযুক্ত নাও হতে পারে’।
সব মিলিয়ে, ফুটবলের সবুজ ঘাসের ওপর এখন শুধু খেলার উত্তেজনা নয়—রাজনীতি, নিরাপত্তা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময়, রোমাঞ্চকর দৃশ্যপট। বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ পর্যন্ত ইরানের পদচারণা কেমন হবে—সেই উত্তরই এখন অপেক্ষায় গোটা ফুটবল বিশ্ব।
