শনিবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ভাইয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই কাল হলো ছোট্ট আরিফার’ *পাষণ্ড ভাবির হাতে নিভে গেল পাঁচ বছরের এক নিষ্পাপ প্রাণ!

রওশন জাহান মিতু
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট আরিফা পুতুল নিয়ে খেলতে ভালোবাসত। রঙিন খেলনা আর সামান্য আদরেই তার মুখে ফুটে উঠত অপার আনন্দ। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বড় ভাই হাসান ছিলেন তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সময় পেলেই বোনের জন্য চকলেট, চিপস কিংবা ছোটখাটো খেলনা নিয়ে আসতেন তিনি। ভাইয়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ালো আরিফার জীবনে।

গত মঙ্গলবার রাতে হাসান ছোট বোনের জন্য একটি প্লাস্টিকের পুতুল ও ফুল নিয়ে বাসায় ফেরেন। আরিফা সেই উপহার পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হলেও বিষয়টি ভালো চোখে দেখেননি তার কিশোরী ভাবি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাবির ধারণা ছিল—স্বামী তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ছোট বোনকে। এই ঈর্ষা আর ক্ষোভ ধীরে ধীরে ভয়ংকর রূপ নেয়।

পরদিন বুধবার সকাল থেকে আরিফার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগে ভাবি শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানেই নিষ্ঠুরভাবে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় নিষ্পাপ আরিফাকে। পরে তার নিথর দেহ বাড়ির ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়।

দুপুরে বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা হাবেজা বেগম। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রতিবেশীদের পরামর্শে পাশের একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। ফুটেজে আরিফাকে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়নি। সন্দেহ আরও গভীর হলে ফের ঘরের ভেতরে খোঁজ শুরু হয়। একপর্যায়ে পানির ট্যাঙ্ক খুলতেই বেরিয়ে আসে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—নিথর পড়ে আছে ছোট্ট আরিফার দেহ।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ জানায়, শিশুটির গলায় শ্বাসরোধের স্পষ্ট দাগ এবং ঠোঁটে ফোলা জখম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।

ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটির ভাবি হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ক্ষোভ ও ঈর্ষার বশেই সে এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ভাবিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত আরিফার পরিবার। বাবা মো. রাজিব দিনমজুর, মা হাবেজা বেগম গৃহিণী। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিদুলকুড়া গ্রামে। স্বপ্ন আর ভালোবাসার ছোট্ট সংসারে এমন নির্মম পরিণতি যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

ভাইয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এক শিশুর সরল হাসি—সবকিছু চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়ে গেল হিংসা আর নিষ্ঠুরতা। ছোট্ট আরিফার মৃত্যু যেন সমাজের জন্য এক গভীর প্রশ্ন রেখে গেল—ঈর্ষা আর অসহিষ্ণুতা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।