ছবি সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানা ঘিরে তোলপাড়—এক উপ-পুলিশ পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। এসআই মো. আলমগীর হোসেনের কথিত ঘুষ লেনদেনের দুটি অডিও কল রেকর্ড ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অডিওতে উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য- ফাঁস হওয়া এক অডিওতে শোনা যায়, একটি পিটিশন মামলার ২৩ আসামির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার শর্তে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই আলমগীর। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী সাকিব হোসাইন ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের তর্ক-বিতর্কও ধরা পড়ে অডিওতে।
আরেকটি অডিওতে অভিযোগ আরও গুরুতর-বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি মামলার ৮ আসামির কাছ থেকে গ্রেপ্তার না করার শর্তে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার কথা উঠে এসেছে। এমনকি অতিরিক্ত টাকা না দিলে গ্রেপ্তার করে থানায় ইফতার করানো হবে—এমন হুমকির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের মুখ খুলতে শুরু- দীর্ঘদিনের ভয় ভেঙে এখন একে একে মুখ খুলছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তাড়াশ থানায় যোগদানের পর থেকেই এসআই আলমগীর বিভিন্ন মামলায় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের ঝড়- অডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সমাজকর্মী মো. গোলাম মোস্তফা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—“অভিযোগের পাহাড় আপনার বিরুদ্ধে… সম্মানের সঙ্গে বদলি নিয়ে চলে যাওয়াই ভালো।
অভিযুক্তের দাবি—সবই মিথ্যা- তবে এসআই আলমগীর হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরাসরি ফোনে কথা না বললেও এক সংবাদকর্মীকে পাঠানো বার্তায় তিনি অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ- এ বিষয়ে মো. হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান—ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঈদের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
প্রশ্ন এখন একটাই, ভাইরাল অডিও কি সত্যিই দুর্নীতির নগ্ন চিত্র তুলে ধরছে, নাকি এটি কোনো ষড়যন্ত্র? তদন্তের পরই মিলবে সেই উত্তর—তবে আপাতত তাড়াশ থানা জুড়ে বইছে উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তার ঝড়।
