রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাঙনের ছায়া, কোটি টাকার ঠিকাদারি—বিসিআইসিতে কি গোপন সমঝোতার গল্প?

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৯, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)–এর একটি বৃহৎ প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (এমএসসিএল)—যাদের অতীত জুড়ে রয়েছে বিতর্ক, অভিযোগ আর অস্বস্তিকর স্মৃতি।

অভিযোগের সুর যেন নীরব, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি তীব্র। বলা হচ্ছে, বিসিআইসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে এক অদৃশ্য ‘সমঝোতার’ পথ ধরেই এই বিশাল কাজটি বণ্টন করা হয়েছে।

এদিকে লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট,দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও—পাঁচ জেলার মাটিতে গড়ে উঠবে এই গুদামগুলো। প্রতিটি প্রকল্পের মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা, যেন একেকটি ইটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি টাকার গল্প। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের কাজের নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড জারির মধ্য দিয়ে সেই গল্পের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

তবে এই গল্প শুধু নির্মাণের নয়, স্মৃতিরও। ২০১০ সালে ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ভাঙার ঘটনায় এমএসসিএলের সম্পৃক্ততা আবারও আলোচনায় এসেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’সহ নানা ঘটনায় নাম জড়ানো এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রশ্ন যেন পিছু ছাড়ছে না।

আবার ২০২৫ সালে জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নড়েচড়ে বসে। একাধিকবার নথি চাওয়া হয় বিসিআইসির কাছে। একই সময়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ও গঠন করে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—তদন্তের ফলাফল যেন কাগজের পাতায় বন্দি থেকেছে, বাস্তবে যার প্রতিফলন নেই। বরং তদন্ত কমিটির প্রধানকেই দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে যুক্ত করায় নিরপেক্ষতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

অভিযোগ আরও গভীরে গিয়ে ইঙ্গিত দেয়—২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার ও প্রকল্প কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

যদিও এসব অভিযোগের বিপরীতে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনো আসেনি। চেয়ারম্যান দায় ঠেলে দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালকের দিকে, আর প্রকল্প পরিচালক দাবি করেছেন—সব কিছুই হয়েছে নিয়ম মেনেই, যোগ্যতার ভিত্তিতে।
তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়—একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এত বড় প্রকল্পে বিতর্কিত অতীতের একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে আবারও সুযোগ পায়?

যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি শুধু অর্থের নয়—বিশ্বাসেরও ভাঙন। রাষ্ট্রীয় ক্রয়প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা আর স্বচ্ছতার ওপর এক গভীর ছায়া।
এখন অপেক্ষা—এই গল্পের পরবর্তী অধ্যায় লিখবে কে? সরকার, নাকি সময় নিজেই? অনুসন্ধানের আরও আপডেট সংবাদ থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।