ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম নিবির ইসলাম অনিক। পুলিশের দাবি, হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অনিক। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দিপু হত্যা মামলায় ১৯ আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। অনিক ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামের কালিমুল্লাহর ছেলে এবং একই কারখানার নিটিং অপারেটর। মঙ্গলবার বিকালে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার চেরাগআলী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি দিপুকে রশি দিয়ে টেনে গাছে ঝোলাচ্ছেন। এরপর লাশে আগুন দেওয়া হয়। তদন্ত দল অনিককে শনাক্ত করে। দিপু হত্যার পর অনিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে ধরতে নেত্রকোনা, বনানী ও গাজীপুরে অভিযানের পর টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার বিকালে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ফিরে দেখা-২০২৫-আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ময়মনসিংহ: বিদায়ি বছরে ময়মনসিংহ ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এর কারণ স্পর্শকাতর কিছু ঘটনা। ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে ২৫ ডিসেম্বর ভালুকা উপজেলায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস ফ্যাক্টরির জুনিয়র কোয়ালিটি কন্ট্রোলার দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও বেঁধে তিন কিলোমিটার টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েক হাজার মানুষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অনেককে উল্লাস করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। মূলত পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে সহকর্মীরা ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে দিপু দাসকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। দেশ-বিদেশে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ হয়।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচনি ক্যাম্পেইন শেষে অটোরিকশাযোগে ফেরার পথে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জানা যায়, হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল ও আলমগীরের হদিস এখনো পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুটার ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গাজিরভিটা ইউনিয়নের ভুটিয়াপাড়া সীমান্তের কাঁটাতারের বেষ্টনীঘেঁষা কালভার্টের দুটি সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়েছে বলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ তথা দেশজুড়ে তোলপাড় চলে।
বিদায়ি বছরে ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা, লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও দিপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যা এবং হাদির হত্যাকারীর হালুয়াঘাট দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।
