মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিন
অনলাইন কেনাকাটার স্বপ্ন দেখিয়ে হাজারো মানুষের হৃদয়ে বিশ্বাসের বীজ বপন করেছিলেন ইভ্যালির কর্ণধার মো. রাসেল ও তার জীবনসঙ্গী শামীমা নাসরিন। কিন্তু সেই বিশ্বাসই একসময় পরিণত হয় গভীর প্রতারণার অন্ধকারে। ভালোবাসা আর আস্থার মোড়কে গড়া সেই সম্পর্কের আড়ালেই নীরবে গড়ে ওঠে কোটি কোটি টাকার এক বিশাল আত্মসাতের গল্প।
অবশেষে সেই গোপন অধ্যায়ের পর্দা উঠল। অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমপির কাফরুল থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বিস্ময়কর ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র—২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অসংখ্য গ্রাহক ইভ্যালির প্ল্যাটফর্মে স্বপ্ন কিনতে এসে হারিয়েছেন তাদের সঞ্চয়। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়ে বারবার ডেলিভারির আশ্বাস দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত পৌঁছেনি কোনো পণ্য; পৌঁছেছে শুধু হতাশা আর ভাঙা বিশ্বাস।
শুধু গ্রাহকরাই নন, বিভিন্ন মার্চেন্টের কাছ থেকেও পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। আর সেই অর্থ দিয়ে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল জীবনের এক রঙিন মায়াজাল—দামী গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ আর আড়ম্বরপূর্ণ সম্পদের ঝলক।
ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ এক দম্পতির গল্প, যা শুরু হয়েছিল স্বপ্ন দিয়ে—শেষমেশ তা রূপ নিয়েছে প্রতারণার এক শীতল বাস্তবতায়। এখন সেই গল্পের বিচার খুঁজছে আইন, আর উত্তর খুঁজছে প্রতারিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
