বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুল তথ্য ও গুজবে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে–সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৮:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি সংগৃহীত
ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (ডিসইনফরমেশন) গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তারা মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় মিডিয়া লিটারেসি বৃদ্ধি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেবা চালু এবং আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের ওপর জোর দেন।
সোমবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত “ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন,
“সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে তথ্য প্রচার আমাদের সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও নৈতিক পেশাজীবী তৈরি করতে হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জোবায়ের বাবু বলেন,
“গণমাধ্যম এখন আগের মতো নেই। কেউ কেউ এই মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর হয়ে পড়ছে। ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও টেম্পারিং এবং এআইভিত্তিক ভুয়া কনটেন্ট থেকে রক্ষা পেতে ফ্যাক্ট-চেকিং সেবা বাড়াতে হবে—এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম বলেন,
“সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের মধ্যে নৈতিক ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তিগুলো অ্যাক্টিভিজমে প্রয়োগ করতে পারলে তথ্য ও ছবির সত্যতা যাচাইয়ের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন,
“সত্য অনুসন্ধানে আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে, যাতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এ জন্য মিডিয়া লিটারেসি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন সময়ের দাবি।”
ড. এস এম রেজওয়ান উল আলম একাডেমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বলেন,
“সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে মিডিয়া লিটারেসির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় সরকার, জনগণ ও সিভিল সোসাইটির সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী। তিনি বলেন,
“আমরা এমন এক সময় পার করছি, যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের সংকট প্রকট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দ্রুতগতির সংবাদ পরিবেশে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন শুধু বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে না, বরং সামাজিক বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।