বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মঞ্জু-আনিস জোটের প্রার্থীরা “ফিরেছেন লাঙ্গলে জাপার সাবেক চার এমপির ডিগবাজি,, ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা জি এম কাদেরের

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ৫:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাবেক চার এমপি ডিগবাজি দিয়ে ফিরেছেন জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে (জাপা)। তারাসহ ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী হবেন।

গতকাল শুক্রবার জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন।

জি এম কাদেরের সঙ্গে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে গত আগস্টে জাতীয় পার্টি নামে পৃথক দল গঠন করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং এবিএম রুহুল আমিন হাওলদার। শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপিসহ ১৮টি দলের সঙ্গে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামে জোট করেছে জাতীয় পার্টির এ অংশ। গত মঙ্গলবার এনডিএফ ১২২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। ওই তালিকায় লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩, ফখরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮, জিয়াউল হক মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং পনির উদ্দিন আহম্মেদ কুড়িগ্রাম-২সহ জাতীয় পার্টির ৮৭ জন ছিলেন। এই সাবেক চার এমপি এনডিএফের সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার ঘোষিত জাপার প্রার্থী তালিকায়ও তারা রয়েছেন। দুই তালিকায় নাম থাকা নিয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। এনডিএফ নেতারা বলছেন, তাদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

জাপা থেকে বহিষ্কার হয়ে জি এম কাদেরের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে ২০২৩ সালে মামলা করেছিলেন রওশনপন্থি জিয়াউল হক মৃধা। পরে রওশনকে ছেড়ে ব্যারিস্টার আনিসের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন এবার বিএনপি নিজে প্রার্থী না দিয়ে জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ায় এ আসনের দুইবারের এমপি জিয়াউল হক মৃধা জাপায় ফেরেন। তাঁর জামাতা ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সমকালকে জানান, মৃধা বৃহস্পতিবার জাপায় ফিরেছেন।

এনডিএফের মুখপাত্র ও জাপার অপর অংশের মহাসচিব রুহুল আমিন সমকালকে বলেন, লাঙ্গল পেতে কয়েকজন চলে গেছেন। তবে লাঙ্গল নিয়ে মামলা চলছে। ৮ জানুয়ারি রায় হবে। আমরা লাঙ্গল পেলে তারা ফিরে আসবে।

এনডিএফের তালিকায় আওয়ামী লীগ আমলের ১৭ জনসহ ২০ এমপি-মন্ত্রীর নাম ছিল। জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারেন তারা। জাতীয় পার্টি সবসময় জনগণের রায়ের ওপর শ্রদ্ধাশীল। জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু আশঙ্কাজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি, সরকার যথাযথভাবে এ কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে গত চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা পায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিএনপিবিহীন একতরফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাপা ৩৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল; যোগ দেয় সরকারেও। ২০১৮ এবং গত বছরের নির্বাচনেও তারা বিরোধী দল হয়।

আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পাওয়া জাপা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চাপে পড়েছে। অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের আপত্তিতে তাদের কোথাও ডাকা হচ্ছে না। একাধিকবার জাপা কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। জি এম কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মামলার আসামি হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী পাচ্ছিল না জাপা।

তবে শামীম হায়দার বলেছেন, সারাদেশে নেতাকর্মীরা উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য উন্মুখ। অনেক আসনেই একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে আমরা প্রার্থী মনোনয়নে হিমশিম খাচ্ছিলাম। যাচাই-বাছাই শেষে আমাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছি। এখনও আশা করি, সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, এসএম আব্দুল মান্নান, মিজানুর রহমান, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।