রাজধানীর মতিঝিল-এ রুমমেটকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ সাত টুকরো করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত শাহীন আলম। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অবশেষে ভেঙে পড়েন তিনি। আদালতের সামনে তুলে ধরেন সেই বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা।
শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চান শাহীন। পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরিন হোসেন। আদালত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৮টার দিকে কবি জসীম উদ্দীন রোড এলাকার একটি বাসায় ঘটে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ-কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার মরদেহ সাত টুকরো করে শাহীন আলম। এরপর রাতের অন্ধকারে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন দেহের খণ্ডিত অংশ।
নৃশংস হত্যার পর একে একে শরীরের অংশ ফেলে আসেন নয়াপল্টন, গুলিস্তান, কমলাপুর এবং আমিনবাজার-এর সালেহপুর সেতুর নিচে। ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হতে থাকে এক যুবকের খণ্ডিত দেহাংশ—যা মুহূর্তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দেয় পুরো রাজধানীতে।
ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে হোটেল কর্মচারী শাহীন আলমকে আটক করা হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মতিঝিল থানা-য় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২ মার্চ তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহরিন হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন শাহীন। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।
নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায়। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহীনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। দুজনই মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ভবনের ছয়তলায় একই ফ্ল্যাটে থাকতেন।
পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান শাহীন আলম। তবে সেই ক্ষোভের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
ঘটনার নৃশংসতা ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যার পেছনের প্রকৃত রহস্য আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
