চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে আছে রাশিয়া, চীন ও ইরান। তবে কিছু দেশের পক্ষ থেকে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে।
চীন রোববার মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি এবং ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাত করা বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, হামলার পেছনে বিশ্বাসযোগ্য কোনো যুক্তি নেই।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন ঘটনা গভীর উদ্বেগের। মস্কো ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন দেবে।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তাঁর সরকার মাদুরোর শাসনকাল শেষ হওয়ায় তেমন কিছু ভাবছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনেরও নিন্দা জানাবে না। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জয় হোক স্বাধীনতার। মিলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিতি।
অপরদিকে, মার্কিন হামলাকে ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে ইরান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেছেন, এই কার্যক্রম সীমা অতিক্রম করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলার’ অভিযোগ এনেছেন।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো নাগরিকদের শান্ত থাকা এবং দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বের কথা বলা প্রয়োজন।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি ও আনাদোলু নিউজ এজেন্সি
