মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ৩০ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ, বিআরটিসির মনিরুজ্জামানকে ঘিরে দুদকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ | ৭ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার সম্ভাব্য অনিয়মের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি | দরপত্র, বিল-ভাউচার ও সরবরাহকারীদের লেনদেন যাচাইয়ের আহ্বান। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিসির ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত—নির্মাণ) মো. মনিরুজ্জামানের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে যন্ত্রাংশ ক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। এ সময়ের সম্ভাব্য অনিয়মের পরিমাণ ৭ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগ ও আর্থিক হিসাবের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণে নথিপত্র পর্যালোচনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশনের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মনিরুজ্জামান ১৯৯৯ সালে বিআরটিসিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানেজার (কারিগরি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় ডিজিএম হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই সময়ে কারখানাটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আয় হতো। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পেছনে ব্যয় দেখানো হতো। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পছন্দের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে কারা কমিশন গ্রহণ করেছেন, কী প্রক্রিয়ায় অর্থের লেনদেন হয়েছে এবং অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি। তাই সংশ্লিষ্ট ক্রয় নথি, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড এবং সরবরাহকারীদের হিসাব পরীক্ষা ছাড়া অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন

যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর অভিযোগ, এ খাতে মাসিক ব্যয়ের একটি অংশও কমিশন হিসেবে ভাগাভাগি করা হতো। তবে এ দাবির সমর্থনে কী ধরনের নথি বা আর্থিক প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সময়ের ব্যয়ের খাত, অনুমোদিত বাজেট, বিল-ভাউচার, অর্থ উত্তোলন ও পরিশোধের বিবরণ এবং হিসাব নিরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত মহল। এসব নথি যাচাই করা হলে অভিযোগে উত্থাপিত আর্থিক হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের কোনো অসংগতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলতে পারে।

তদন্তে যেসব নথি গুরুত্বপূর্ণ

অভিযোগের প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানার যন্ত্রাংশ ক্রয়সংক্রান্ত দরপত্র, কার্যাদেশ, সরবরাহকারীদের তালিকা, বিল-ভাউচার, অর্থ পরিশোধের নথি, স্টক রেজিস্টার এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে, যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য ও ক্রয়মূল্যের তুলনা, সরবরাহের প্রকৃত পরিমাণ, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের রেকর্ড পর্যালোচনা করলে কোনো অনিয়মের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের অনুমোদন ও অর্থের ব্যবহার পরীক্ষা করাও জরুরি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, যথাযথ নথি সংরক্ষণ ও স্বাধীন নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এসব উপাদান যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের পথ সুগম হতে পারে।

বক্তব্য ও দুদকের পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি

এদিকে, আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য এবং বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি দুদক চিঠিটি গ্রহণ করেছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে নিরপেক্ষভাবে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করাই হবে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের প্রধান পথ।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবির যথার্থতাও স্পষ্ট হবে। ফলে বিআরটিসির তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় ওই সময়ের যন্ত্রাংশ ক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের স্বচ্ছ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।