শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নিয়েও সংসদে শোক! ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তুমুল আলোচনা-সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১২, ২০২৬ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি ফাইল

মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের ছয় ও বিএনপির এক নেতার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব; বিরোধী দল বলল ‘একপেশে’, পরে যুক্ত হলো আরও বহু নাম

রিপোর্ট:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ঘটেছে আলোচনার ঝড় তোলা এক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতা ও বিএনপির এক নেতার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে সংসদে তৈরি হয় বিস্ময়, বিতর্ক ও তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রেওয়াজ অনুযায়ী শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। শুরুতে সংসদ সচিবালয়ের লিখিত তালিকায় যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত কোনো নেতার নাম ছিল না।
তবে অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম অতিরিক্ত কয়েকটি নাম যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী-সহ কয়েকজনের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর নামও যুক্ত করা হয়।
পরে আলোচনায় আরও উঠে আসে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত অন্যান্য নেতার নাম—যাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং মীর কাসেম আলী।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর রায়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে এসব নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করতে গিয়ে কারাগারেই মারা যান। অন্যদিকে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপেশেভাবে তৈরি করা হয়েছে। এরপর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ফ্লোর নিয়ে আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত করার দাবি জানান।
আলোচনার এক পর্যায়ে শাপলা চত্বরের ঘটনাও টেনে আনা হয় এবং সেখানে নিহতদের বিষয়েও শোক প্রস্তাবে উল্লেখ করার দাবি ওঠে। বিতর্কের মধ্যেই স্পিকার জানান, উত্থাপিত নামগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অবশেষে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণ করে শোক প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।