রাজধানীর মেরাদিয়া সিপাহীবাগ মেইন সড়কে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের নিয়ম ভেঙে ৭ তলার নকশার অনুমোদন নিয়ে নয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে। রাজউক থেকে ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে কাজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন মেরাদিয়া সিপাহীবাগ মেইন সড়ক কাঁচা বাজার সংলগ্ন ৩/১ বাড়ির । কিন্তু ৮ তলার কাজ সমাপ্তির পর পরই অতিরিক্ত ৯তলার নির্মাণ শুরু করেন মানিক মিয়া। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে রাজউক অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজউক অ্যাকশন নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শাতে বলেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করেন; কিন্তু রাজউকের নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে কাজ চালিয়ে আসছে মানিক মিয়া। পরে চূড়ান্ত নোটিশ দিলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে রাজউকের একাধিক পরিদর্শনে নকশা এবং কাজের সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক প্রমাণ পেলেও চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে নোটিশ হিমাগারে থেকে যায়। রাজউকের এমন কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জানিয়েছেন অভিযোগকারী রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খিলগাঁও থানা এলাকায় মেরাদিয়া সিপাহীবাগ কাঁচাবাজার মেইন সড়কে ৩/১ ভবনটির মালিক লন্ডন প্রবাসী মানিক মিয়া প্রবাসে থাকার ফলে তার ভাগিনা শফিক নির্মাণ কাজের দেখাশোনা করেন। ভাগিনা শফিক আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী নেতাদের যোগসাজশে অনিয়মকে সহজে নিয়মে পরিণত করেছেন মানিক মিয়া।
এদিকে ইমারত নির্মাণ আইনে বহুতল ভবন নির্মাণে নকশার বাইরে ৪০ ভাগ জমি ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। লিফটের জন্য ম্পেস না রেখে ছোট সরু সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন যা নকশার সাথে সাংঘর্ষিক। বহুতল ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পাকিংপয়েন্ট জুড়ে কমার্শিয়াল জোনে পরিণত করেছেন। রাজধানী জুড়ে আগুনের ভয়াবহতা রোধে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সকল ভবন মালিককে পাকিংপয়েন্টের কমার্শিয়াল জোনের শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর থাকলেও তা মানা হয়নি। কিন্তু সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন ভবন মালিক। সাম্প্রতিক আগুনের ভয়াবহতা ছাড়াও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।এখনই অবৈধ ভবন মালিকদের লাগাম টেনে ধরার উপযুক্ত সময়।
এসব অনিয়মের বিষয়ে ভবন নির্মাণে দায়িত্বে থাকা ভাগিনা মো. শফিক উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি মেরাদিয়া সিপাহীবাগ এলাকায় দেখেন এমন অতিরিক্ত ১ বা ২ তলা নির্মাণ করে রেখেছে অনেক বাড়ি, তাহলে আমাদের অপরাধ কোথায়। ৭ তলার নকশায় নয়তলা ভবন নির্মাণ করছেন কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাজউকের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে, আমাদের ৩ দিন সময় দেন তাহলে সঠিক তথ্য জানাতে পারবো। রাজউক কি আপনাদের নকশায় নয়তলার অনুমোদন দিতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।
অনিয়মের বিষয় জানতে ওই ভবনের দায়িত্বে থাকা সিভিল প্রকৌশলী নাহিদের একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য নেওয়া যায়নি । পরে নাম্বারে মেসেজ পাঠালেও তার পক্ষ থেকে উত্তর পাওয়া যায়নি।
এসব অনিয়মের বিষয়ে জোন-৬/১ এর অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর কাছে জানতে চাওয়া হলে সাংবাদিককে বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
