মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড্ডার লিংক রোডে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে প্রাণ হারান আবুল কাশেম আজাদ (৩৫)। অফিস শেষে প্রতিদিনের মতো বাড়ি ফেরার পথে, এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনের সব পথচলা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল কাশেম আজাদ ছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী। ইউসিবি ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখায় সাপোর্টিং স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সহকর্মী ইফতেখার হোসেন জানান, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নেকদি গ্রামের ছেলে আজাদ প্রতিদিনের মতো সেদিনও অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় রাইদা ও ভিক্টর পরিবহনের দুটি বাসের মাঝে চাপা পড়ে তিনি মারাত্মক আহত হন। খবর পেয়ে সহকর্মীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বাড্ডা থানার ওসি কাজী নাসিরুল আমিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বাড্ডা থানাকে জানানো হয়েছে।
একজন বাবা-মায়ের সন্তান, পরিবারের ভরসা, সহকর্মীদের প্রিয় মানুষ—সব পরিচয়ের ইতি টেনে ব্যস্ত শহরের রাস্তায় নিথর হয়ে পড়ে রইল আবুল কাশেম আজাদ। প্রতিদিনের যাতায়াত, চেনা পথ—এক মুহূর্তেই হয়ে উঠল মৃত্যুপথ। রাজধানীর সড়কে এমন মৃত্যু যেন আর কেবল একটি সংবাদ নয়, এক গভীর ক্ষত, এক নীরব যন্ত্রণা।
