আমি বুদ্ধিজীবী নাহ; বুদ্ধিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য পেশা হিসেবে নেওয়ার মানষে নয় বরং জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে খুব সাধারন ভাবে নিজের কিছু মনের অভিব্যক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
আজকে জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানটি সাধারণ অনেক মানুষের মতই ঘরে বসে দেখছিলাম। খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করছিলাম গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে কিছু তার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় কিনা? যেভাবে মানুষটাকে তার বিপক্ষ রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের সামনে বেশ কিছুদিন ধরে উপস্থাপন করে আসছিল, আসলে কি উনি তাই? তবে বেশ কয়েকটা জায়গায় আজ আমি মানুষটার মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম।
এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার কিছু বন্ধু মহলে আলোচনা করে আসছিলাম যে, উনি যদি এই ধরনের কোন মুভমেন্ট করে তাহলে বুঝবো ১৭ বছর আগের তারেক রহমান আর ১৭ বছর পরের তারেক রহমানের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।
ক্ষুদ্রাকারে আমার দৃষ্টিতে পড়া অথবা বলতে পারেন অনেকের দৃষ্টিতেই পড়া বেশ কিছু ভালো লক্ষণ নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। উনি এই কাজগুলোর মাধ্যমে কিছুটা বলছি, কারণ ওনাকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে) প্রমাণ করতে সমর্থ্য হয়েছে যে উনি আসলেই এদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে এবং তাদেরই একজন হয়ে থাকতে এদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপ, বক্তব্য,সাবলীল অভিব্যক্তির ভাষায় অনুমেয় হয়। সত্যিই প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি থেকে দেশকে প্রধান্য দিয়ে সক্রীয় ভূমিকায় নিজেকে সংবেদনশীল হিসেবে গড়ে তুলবেন।
আশা করি মাটি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই ভালোবাসার মূল্যায়ন সাধারণ মানুষরা করবে ভবিষ্যতে এবং তার আশেপাশে থাকা রাজনীতিবিদরাও চেষ্টা করবে মাটি আর সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যেতে। এই দেশটাকে ভালবাসার দায়িত্ব শুধু উনার একার না, উনার দলের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর।
আমার মতো সকলের দৃষ্টিতেই দেখা আজকে উনার ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপারগুলো :
১) এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েই খালি পায়ে তার জন্মভূমি, তার ভালোবাসার দেশের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। হয়তো অতীতে কোন মহান নেতা দেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশের মাটিকে চুমু খেয়েছেন, আর আজকে উনিও খালি পায়ে মাটির স্পর্শ নিয়ে কিছুটা প্রমাণ করতে পেরেছেন উনার মাহাত্ম্য। যদিও অনেকে বলতে পারেন উনাকে যারা বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে থাকেন তাদের পরামর্শে উনি মানুষের মন জয় করার জন্য এই কাজটি করেছেন, কোন ভালোবাসার টানে না। যদি মানুষের মন জয় করার জন্য করেই থাকেন, ক্ষতি কি? যেকোনো নেতার কাজই তো হলো মানুষের মন জয় করে চলা।
২) দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরে আবার বাসে করে তার জন্য অপেক্ষমান সকল সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দু’পায়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সাধারণ মানুষের ভালোবাসার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। উনি চাইলেই হেলিকপ্টার করে এয়ারপোর্ট থেকে ৩০০ ফিট যেতে পারতেন, কিন্তু উনি তা না করে রাস্তার দুই ধারে লম্বা সময় ধরে অপেক্ষমান প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। যদিও রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এই কারণে এবং এর জন্য ওনার দল আগেই ক্ষমা চেয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। প্রয়োজনে আরো কয়েকবার চাইবে। দেশের স্বার্থে ক্ষমা চাওয়া দোষের কিছু না। তবে এটা দেশপ্রেমের জলন্ত প্রমাণ বহন করে।
৩) মঞ্চে তার জন্য রাখা রাজকীয় চেয়ার সরিয়ে সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা। এটা যে কত বড় মনের পরিচয় তা হয়তো তার আশেপাশে বসা বড় বড় নেতারাও অনুধাবন করতে পারে নাই। আমাদের দেশের ছোট বড় নেতারা এই কালচারটা কখনোই গ্রহণ করে নাই।। সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হলে , সাধারণ মানুষের কাতারে যদি থাকার ইচ্ছে হয় তাহলে সাধারণ মানুষের মতোই থাকা উচিত।। আশা করি ভবিষ্যতে বিএনপি অন্যান্য নেতারাও ওনার এই সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মহত্বের মূল্য দিয়ে নিজেদের মধ্যেও পরিবর্তন আনবে।
৪) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তার পুরো ভাষণে লক্ষ্য করলাম সেটা হল, যদি দেশের সাধারণ মানুষ উনাকে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেয়, তাহলে উনি নবী রাসুল সাঃ এর সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবেন।। নবী রাসুল সাঃ এর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা মানেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, দেশে দুর্নীতি দূর করা, সাধারণ মানুষকে তার সম্মানের জায়গায় রাখা, মানুষের স্বাধীনতাসহ আরো অনেক কিছু জড়িয়ে থাকে। তাই আশা করি বিপথগামী তার দলের নেতাকর্মীসহ সকলের কাছেই তার বার্তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। আরেকটি ব্যাপার স্পষ্ট হয়েছে, আমাদের প্রাণ প্রিয় ইসলাম ধর্ম শুধু কোন একটি দলের না, এটা আমাদের সবার। মেসেজ ক্লিয়ার।
৫) অনেকদিন ধরেই অনেকেই বলে আসছিলেন উনি কেমন ছেলে মার এই অসুস্থতার মাঝেও দেশে আসেনা শুধু নিজের সুবিধার কথা চিন্তা করে। তাদের সবাইকে বলতে চাই, উনি কি আজ দেশে ফিরে আসেছেন শুধুই তার মার টানে? নাহ বাবা মায়ের গড়া এই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য, কারন তিনি বলেছেন আপনারা এইদেশের জনগণ আমার বাবা-মায়ের জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তা আমি হৃদয়ে ধারন করেছি। আমি দেখেছি আমার বাবা এবং মায়ের এই দেশ ও দেশের জনগণের জন্য একজন জীবন দিয়েছেন এবং অন্যজন আমার মা গনতন্ত্র তথা দেশের জন্য লড়াই করতে আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শুধু মার টানে না, এই দেশের মাটির টানে, এই দেশের সাধারণ মানুষের ভালবাসার টানে উনি আজ দেশে এসেছেন। কারণ মার কাছে সরাসরি না গিয়ে উনি প্রথমেই এসেছেন সাধারণ মানুষের কাছে, তাদের ভালোবাসার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে। সবার মতই মার প্রতি টান উনারও আছে কিন্তু দেশের মানুষের প্রতি তার টান আর ভালোবাসা আরো বেশি , তা ই আজ উনি প্রমাণ করলেন।
আরেকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে উনার কাছে দেশ ছাড়া আর অন্য কিছু বড় না, কিভাবে জানেন? যে বাসে করে উনি ফিরছিলেন ওই বাসের চতুর্দিকে লেখা ছিল ” সবার আগে বাংলাদেশ”।। খুব সাধারন মনে হলেও ব্যাপারটার গভীর, আশাকরি এর মাহাত্ম্য বুঝার চেষ্টা করবেন সবাই।
বেশি দীর্ঘায়িত না করে বলতে চাই তার দলের সকল নেতাকর্মীর কাছে, মানুষটাকে আপনাদের কৃতকর্মের দ্বারা বিতর্কিত করবেন না। তার হাতকে এবং তার পরিকল্পনাগুলোকে আন্তরিকতার সাথে শক্তিশালী এবং বাস্তবায়নের জন্য তার পাশে সব সময় থাকেন আর যদি না পারেন, চলে যান। এদেশে এবং বিদেশে এখনো অনেক ইয়াং এবং নলেজেবল দেশপ্রেমিক আছে যাদেরকে উনি ডাকলেই উনার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে আসবে।
সবশেষে আরেকটি কথা বলতে চাই। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি একটাই অনুরোধ থাকলো, জনাব তারেক রহমানের প্রত্যেকটা ভালো কর্মগুলোকে, তার দৃষ্টিভঙ্গি গুলো, দেশের মানুষের প্রতি তার ওয়াদা গুলো, দয়া করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। এটা বলার কারণ, আপনারা খুবই দুর্বল এই ব্যাপারটায়। আপনারা বয়ান তৈরি করতে পারেন না। গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে আপনারা স্বপ্ন দেখাতে পারেন না। তবে কেউ কেউ স্বপ্ন দেখালেও, স্বপ্ন কিভাবে বাস্তব হবে তার পরিকল্পনা করতে পারেন না।
অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে নতুন ধারার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য করতে হবে। আশাকরি দলের সকল নিবেদিত মানুষ আবেগপ্রবন হয়ে হৃদয়ে ধারন করবেন এ প্রত্যাশা রাখি।
