রায়গঞ্জ উপজেলা-এর সোনাখাড়া ইউনিয়নের বন্দিহার গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ভারী ছায়া। নিজ শয়নকক্ষের ভেতর গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিলেন তাপস মাহাতো (২০)। বুধবার (৪ মার্চ) সকালের এই মর্মান্তিক দৃশ্য স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকাকে।
নিহত তাপস মাহাতো ওই গ্রামের সুশীল চন্দ্র মাহাতোর ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে ছেলেকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার বাবা। একপর্যায়ে ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই চোখে পড়ে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য—শয়নকক্ষের আড়ার সঙ্গে ঝুলছেন তাপস। মুহূর্তেই চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নামানোর চেষ্টা করেন এবং খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সংবাদ পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সকাল ১১টা) মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের নিঃশব্দ কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সোনাখাড়া এলাকা। রহস্যঘেরা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের অপেক্ষায় এখন সবাই।
