ফাইল ছবি
উত্তরবঙ্গের রাজনীতির মানচিত্রে যেন আচমকাই বয়ে গেছে তিস্তার ঢল। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটের তিনটি আসন এবার এক ঝটকায় নিজেদের দখলে নিয়েছে বিএনপি। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে জামায়াত জোটের জয়যাত্রার মধ্যেও লালমনিরহাটে বিএনপির এই দাপুটে ‘ক্লিন সুইপ’ এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই নাটকীয় পালাবদলের নেপথ্যে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি ছিল ‘তিস্তা ম্যাজিক’—আর সেই ম্যাজিকের কারিগর দুলুই।
তিস্তাপারের কণ্ঠস্বর থেকে ভোটযুদ্ধের সেনাপতি
দুলু কেবল রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিস্তাপারের মানুষের অধিকার আদায়ের দৃঢ় কণ্ঠস্বর হিসেবে। তাঁর নেতৃত্বে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলন যেমন তিস্তার পানিবণ্টন ও নদী রক্ষার প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনায় তুলেছে, তেমনি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ উদ্যোগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে রাজনীতিকে যুক্ত করেছে।
রাজনীতি যেখানে অনেক সময় শুষ্ক, সেখানে দুলু রঙ ছড়িয়েছেন মাঠে-ঘাটে—ফুটবল টুর্নামেন্ট, বৈশাখী মেলা, বউ-জামাই মেলা, পিঠা উৎসব—সব মিলিয়ে রাজনীতিকে তিনি উৎসবে রূপ দিয়েছেন। ফলে ভোটের আগে তাঁর জনভিত্তি ছিল উচ্ছ্বাসে ভরপুর, সংগঠন ছিল চাঙ্গা, আর প্রতিকূল ১৭ বছরের পথচলা যেন পরিণত হয়েছে অভিজ্ঞতার পুঁজি।
