সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। ভিডিও থেকে নেওয়া
হৃদয়বিদারক কাহিনি,কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে মৃত্যুপুরী
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা ছুটে আসে এক মৃত্যুর ট্রেন। মুহূর্তেই আনন্দ,স্বপ্ন আর জীবনের সব হিসাব মিশে যায় রক্তাক্ত বাস্তবতায়। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং—যেখানে আবারও ঝরল ১২টি প্রাণ, ছিন্নভিন্ন হলো অসংখ্য পরিবারের ঈদের সুখ।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে দূর দেশ সিঙ্গাপুরে বসেই নিজেকে সামলাতে পারেননি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। কাঁপা হাতে ফোন ধরলেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে… আর তারপর—অঝোরে কান্না। ফোনের ওপাশে কান্না, ক্ষোভ আর অসহায়তার আর্তনাদ। হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া সেই কথোপকথনে দেখা যায়—একজন প্রবীণ রাজনীতিক নয়, বরং এক অসহায় মানুষের আর্তচিৎকার। সংসদ সদস্য বলেন, ভাই ১০০ বছর ধরে এই ঘটনা ঘটছে… কেউ বিচার করে না—কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন তিনি। তার কণ্ঠে ক্ষোভ, হতাশা আর দীর্ঘদিনের জমে থাকা বেদনা— এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি… আমি শান্তি পাবো কবে?
তিনি আরও বলেন, বহুবার চেষ্টা করেও পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে স্থায়ী সমাধান করতে পারেননি। অভিযোগ তুলেছেন—অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজ হয়নি, দায়িত্বহীনতা আর দুর্নীতিতে থেমে গেছে সব উদ্যোগ। মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়… ফোনের অপর প্রান্তে রেলমন্ত্রী আশ্বাস দেন— আমি যাচ্ছি, যা করার করব।
এই সংক্ষিপ্ত বাক্যে যেন লুকিয়ে আছে হাজারো প্রশ্ন—
কিন্তু কবে? আর কত প্রাণ গেলে? সেই ভয়াল রাতের দৃশ্য সবাইকে আতঙ্কিত করছে। শনিবার দিবাগত রাত, সময় প্রায় পৌনে ৩টা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন হঠাৎই ধাক্কা দেয় ‘মামুন পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসকে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর দৃশ্যটি ছিল শিউরে ওঠার মতো—
বাঁকানো লোহার স্তূপ, ছড়িয়ে থাকা জুতা-স্যান্ডেল, আর চারদিকে শুধু আহাজারি… ১২টি প্রাণ নিভে গেছে সেখানেই। আহত অন্তত ১৫ জন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনো লড়ছে কয়েকজন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এক প্রশ্ন—উত্তরহীন- এই ট্র্যাজেডি নতুন নয়…
কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে কাঁদায় পুরো দেশকে।
রেললাইন পার হতে গিয়ে আর কত লাশ পড়বে?
কত কান্না শুনলে জেগে উঠবে দায়িত্ববোধ?
মনিরুল হক চৌধুরীর কণ্ঠের কান্না যেন আজ পুরো জাতির কান্না— একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে— এই মৃত্যুপুরী থেকে মুক্তি কবে?”
