রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শান্তিনগরে ডিম-ইটের হামলা, উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, বিএনপির দিকে আঙুল এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৬:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পিঠা উৎসবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করা হয়। ছবি-সংগৃহীত

ঢাকার নির্বাচনী রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হলো। ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর প্রকাশ্য হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তার ওপর ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।

এ ঘটনার জন্য সরাসরি বিএনপিকে দায়ী করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। ঘটনার পর ফকিরাপুল মোড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সম্মতিতেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের সন্ত্রাসী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। তার ভাষায়, প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে যদি সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কোথায়?”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সহিংসতার পথ চললে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আসতে পারে। তবে এনসিপি কোনোভাবেই অরাজক পরিবেশ চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে দল হিসেবে তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দুপুর ১২টায় তার কলেজে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, আর একই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের উপস্থিতির সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ২টা। কিন্তু কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর পরিস্থিতি হঠাৎই পাল্টে যায়।

তার অভিযোগ, নিজেকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। কিল-ঘুষি, লাঠি, ইট-পাটকেল—এরপর শুরু হয় নির্বিচারে ডিম নিক্ষেপ, বলেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, এটি শহীদ ওসমান হাদীর আসন—যেখানে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। তিনি বলেন, জনগণের কাছে এই হামলার বিচার তিনি ব্যালটের মাধ্যমে তুলে ধরবেন।

এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে মির্জা আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। তার ভাষায়, মির্জা আব্বাস কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেবেন, না কি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন—এ সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন কার্যত একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মাঠে ছেড়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতার নামও প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, হামলার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ভাগিনা আদিত্য।

এই হামলায় ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর শাহিন আহমেদ খানসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এমন সহিংস ঘটনায় রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই সহিংসতার দায় কে নেবে, আর নির্বাচন কমিশনই বা কী পদক্ষেপ নেয়?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।