বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুটির শরীরজুড়ে শুধু নির্যাতনের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অভাবের সংসার। তাই বাধ্য হয়ে ১১ বছরের মেয়েকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠিয়েছিলেন বাবা। গৃহকর্তার বাসায় শিশুটি নিজের মেয়ের মতো থাকবে, মাসে মাসে বেতন পাবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া তার বিয়ের সময় যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু দুই দিন আগে মেয়েকে দেখে আঁতকে ওঠেন বাবা। মুখমণ্ডল, গলাসহ পুরো শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। তিনি জানতে পারেন, পান থেকে চুন খসলেই মেয়ের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন। মারধরের সঙ্গে গরম খুন্তি দিয়ে দেওয়া হতো ছ্যাঁকা।

এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। সেই মামলায় গত রোববার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর তিনজন হলেন–তাঁর স্ত্রী মোছা. বীথি, গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ গণমাধ্যম কে বলেন, আট মাস আগে বিমানের এমডির বাসায় কাজ শুরু করে শিশুটি। শুরু থেকেই সে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। এখন সে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার তাঁর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেন। কমিশনারের পক্ষে যুগ্ম-কমিশনার (অপরাধ) বিকেলে টাকা পৌঁছে দেন। এর আগে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হলে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা-৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বিমানের এমডিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, বিমানের এমডির বাসার নিরাপত্তাকর্মী মো. জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে গত বছরের জুন মাসে মেয়েকে কাজে পাঠান তিনি। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত শনিবার এমডির স্ত্রী বীথি ফোন করে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ। পরে মেয়েকে আনতে গিয়ে দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। শিশুটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে মেয়েই জানায়, বিভিন্ন সময় তার ওপর নির্যাতন করা হতো। খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। পরে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি।
আদালত সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার চারজনকে গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।