শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বুকজুড়ে যেন এক অদৃশ্য হাহাকার—ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি আর সম্ভাবনার মাঝেও শূন্য পড়ে আছে ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষক পদ। সংসদের অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কণ্ঠে উঠে এলো সেই বাস্তবতা, যা শুধু সংখ্যা নয়—এ যেন হাজারো শ্রেণিকক্ষের অপূর্ণ গল্প।
বুধবার সংসদের বৈঠকে এনসিপির সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে এই বিপুল শূন্যতা বিরাজ করছে। তবে এর মাঝেও আশার আলো জ্বালিয়ে তিনি বলেন—সরকার ইতোমধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরদার করেছে, যেন দ্রুতই এই শূন্যতা পূর্ণ হয় জ্ঞানদীপ্ত মানুষের উপস্থিতিতে।
সরকারি কলেজে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৬৫৬টি প্রভাষক পদ শূন্য, আর সদ্য সরকারিকৃত কলেজগুলোতে নন-ক্যাডার প্রভাষকের শূন্যতা ২ হাজার ৪১০টি। এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতেও অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ এখনো অপেক্ষমাণ। তবে আশার কথা—১ হাজার ৩৪৪টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান, যেন শিক্ষাঙ্গনে ফিরে আসে প্রাণের স্পন্দন।
মন্ত্রী আরও জানান, ৪৫তম থেকে ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত রয়েছে। আর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে—যেন যোগ্যতার প্রেমেই গড়ে ওঠে শিক্ষা।
একইসঙ্গে ১১ হাজার ১৫১টি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের পদ পূরণে আবেদন নেওয়া হয়েছে—যেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পায় তার প্রাপ্য নেতৃত্ব, আর শিক্ষার্থীরা পায় আলোর দিশা।
বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি এক দীর্ঘমেয়াদী ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত—যেখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ। দেশে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত—যাদের স্বপ্ন একদিন রাষ্ট্রের আপন ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া।
শিক্ষা খাতে সমতা ও গুণগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে
মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে রাজনৈতিক পরিচয় নয়—যোগ্যতা আর নীতিমালাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। প্রতিটি সংসদীয় আসনে স্কুল ও কলেজ উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি—যেন গ্রাম থেকে শহর, প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার আলো।
তবে এখনো দেশের ২ হাজার ৮৩৯টি গ্রামে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়—যেন সেসব গ্রামের শিশুরা অপেক্ষায় আছে প্রথম অক্ষর শেখার স্পর্শের জন্য।
সবশেষে, শিক্ষামন্ত্রীর কণ্ঠে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা—মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর। সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে স্বপ্ন, শূন্যতার ভেতরেও আছে সম্ভাবনার ভালোবাসা। এখন শুধু অপেক্ষা—কবে সেই শূন্য পদগুলো পূর্ণ হবে প্রজ্ঞা, মমতা আর আলোর মানুষ দিয়ে…।
