বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে ‘না’—সাংবিধানিক যুক্তিতে বিএনপির কৌশলী অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে ব্রিফ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির নবনির্বাচিতরা। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও নানা জল্পনা। তবে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ—এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং “সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা”র প্রশ্ন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেই।
কোথায় সাংবিধানিক জট?
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অপারগ হলে বা অনুপস্থিত থাকলে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন। সেটিও সম্ভব না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
“এই বিধান সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে কোনো কাঠামো এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এর সদস্যদের শপথ পড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না,”—জোর দিয়ে বলেন সালাহউদ্দিন।সংবিধানে আগে জায়গা, তারপর শপথ’
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে সাদা ও নীল দুটি ফরম হাতে নিয়ে তিনি জানান, তারা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি এমন পরিষদ গঠিত হয়, তবে আগে সেটিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপর নির্ধারণ করতে হবে—কে শপথ পড়াবেন এবং কীভাবে।
তার ভাষায়, “সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে শপথের ফরম যুক্ত হবে, সংসদে তা গৃহীত হবে—তারপরই শপথ নেওয়ার বিধান কার্যকর করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনেই চলছি, সামনেও চলবো।”
গণভোট ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’
সংসদীয় দলের সভা শেষে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংসদে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন আনতে হবে।
রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত “জুলাই জাতীয় সনদ”র প্রতিও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি—অক্ষরে অক্ষরে তা প্রতিপালনের অঙ্গীকারের কথা জানান।
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও দলটি বার্তা দিতে চায়—তারা ‘আইনের পথ’েই হাঁটছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ কাঠামো কীভাবে চূড়ান্ত হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।