রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবুজের আড়ালে কালো খেলা, বনের বুকে প্রেম নয়, দুর্নীতির দহন—তিন কর্মকর্তার দেড় কোটি টাকার লুটপাটে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বনের গভীরে যেখানে জন্ম নেওয়ার কথা ছিল সবুজ স্বপ্ন, সেখানে নীরবে বেড়ে উঠেছে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ। শ্রম, প্রকৃতি আর জীবিকার নামে নেওয়া প্রকল্প যেন পরিণত হয়েছে এক গোপন লুটপাটের গল্পে—যেখানে ভালোবাসা নয়, বিশ্বাসঘাতকতাই লিখছে শেষ অধ্যায়।
বন বিভাগের ঘুষ-দুর্নীতি আর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার যেন তা ছাপিয়ে গেছে সব সীমা। দীর্ঘদিন ধরে শাস্তির অভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠা এক সংঘবদ্ধ চক্র সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা) প্রকল্পের দেড় কোটি টাকার বেশি আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাগান তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সবুজের দেখা মেলেনি। অথচ কাগজে-কলমে হিসাব ঠিকই মিলে গেছে—যেন ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষমেশ শূন্যতা উপহার দেওয়ার মতো এক নির্মম প্রতারণা।

আবার এই ঘটনার, ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে ওঠার পরও বন বিভাগ কোনো তদন্ত না করায় প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। বরং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে প্রধান অভিযুক্ত সাদেকুর রহমানকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—যেন অপরাধই হয়ে উঠেছে পুরস্কারের সিঁড়ি।

অভিযোগ রয়েছে, এই দুর্নীতি আড়াল করতে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের একটি অংশও ঘুষের মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে। তদন্তের চিঠি দেওয়া হলেও তা কার্যত ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে—নীরবতার দেয়ালে আটকে গেছে সত্যের আর্তনাদ।

দেখা গেছে প্রকল্পের আওতায় কুমিরা রেঞ্জে ১৭০ হেক্টর বাগান তৈরির কথা থাকলেও জরিপে দেখা গেছে, জীবিত চারাগাছের হার মাত্র ৬০.২০ শতাংশ, যেখানে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ থাকার কথা। অন্য একটি বাগানেও একই চিত্র—অপূর্ণতা আর অবহেলার স্পষ্ট ছাপ। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে সাদেকুর রহমান, এস.এম কায়চার ও জয়নাল আবেদীনের নাম।

অভিযোগ, তারা শুধু অর্থ আত্মসাৎই করেননি, বরং বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন—যেন দুর্নীতির রাজ্যে নিজেরাই হয়ে উঠেছেন অদৃশ্য রাজা।

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্যে মেলে না কোনো স্পষ্ট জবাব—কেউ দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন, কেউ নীরব। আর এই নীরবতাই যেন আরও জোরালো করে তুলছে অভিযোগের ভার। নীরবতার আরেক নাম দায়মুক্তি। নীরবতাই দোষ স্বীকার এমনটাই ভাবছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আর এই নীরবতাই যেন জোরালো করে তুলছে অভিযুক্তরা।

বনের এই ‘সবুজ প্রেমের গল্প, এখন জনমনে এক তীব্র ক্ষোভের প্রতীক। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাঝেও এমন দুঃসাহসী দুর্নীতি যেন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—আসলেই কি থামবে এই অন্ধকার অধ্যায়?
এখন সময় সত্য উন্মোচনের, মুখোশ খুলে দেওয়ার—যাতে সবুজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই কালো গল্প একদিন ন্যায়বিচারের আলোয় ধরা পড়ে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।