সরকারি দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর–এর সংযুক্ত সহকারী পরিচালক আব্দুর রশীদের নাম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ সিন্ডিকেট পরিচালনা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী পাস করানো এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র আলোচনা চলছে।
সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন-
দপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আব্দুর রশীদ অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ির পাশাপাশি বগুড়ায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। ব্যাংক হিসাবেও বড় অঙ্কের সঞ্চয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এসব সম্পদ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
পুরনো অভিযোগ, নতুন করে আলোচনায় আসলে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বহুদিনের। ২০২১ সালের ৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন–এ গণস্বাক্ষরিত অভিযোগও জমা পড়ে, যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়। তবে এরপরও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকায় দপ্তরের ভেতরে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিয়োগ সিন্ডিকেট’ ও আত্মীয়কেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সূত্র বলছে, আব্দুর রশীদের একটি দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে—যেখানে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সহযোগীদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রত্যাশীদের তালিকা সংগ্রহ, আর্থিক চুক্তি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে। দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে তার আত্মীয়স্বজন কর্মরত থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা চাউর হলে,
২০১৯ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কয়েকটি পদে প্রায় ৭ লাখ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা হলে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর ফার্মেসি বিভাগ সংশ্লিষ্ট ওই ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুর রশীদ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল; যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ-
দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন—যেখানে কখনো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আবার সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
