কোভিডের কান্নার মাঝে লুটের উৎসব: সিএমএসডিতে অর্থের রোমাঞ্চকর গায়েব রহস্যের হোতা ডা.তৌহিদ আহমেদ ছবি: সংগৃহীত
দেশের স্বাস্থ্যখাত—যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত মানে জীবন আর মৃত্যুর সূক্ষ্ম সীমানা। সেই স্পর্শকাতর জায়গাটিতেই যেন নেমে এসেছে এক অদৃশ্য অন্ধকার। কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) আজ যেন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অভিযোগে জর্জরিত এক রহস্যময় গোলকধাঁধা—যার কেন্দ্রে রয়েছেন উপ-পরিচালক ডা. তৌহিদ আহমেদ।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রভাবশালী অবস্থান, ক্ষমতার নিঃশব্দ বিস্তার, আর প্রশাসনিক জটিলতার আড়ালে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত বলয়—সব মিলিয়ে যেন এক নিখুঁত ক্ষমতার গল্প। অভিযোগ বলছে, নিয়ম-নীতির বেড়া ভেঙে তিনি তৈরি করেছেন নিজের এক আলাদা রাজত্ব, যেখানে কাগজে-কলমে কেনাকাটা হয়, অথচ বাস্তবে থাকে না কোনো অস্তিত্ব।
কোভিডের ভয়াল সময়—যখন পুরো দেশ শ্বাস নিচ্ছিল আতঙ্কে, তখনই নাকি শুরু হয় সবচেয়ে অদ্ভুত খেলা। এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশন—জীবন বাঁচানোর এই উপকরণগুলো হয়ে ওঠে হিসাবের অঙ্ক। বাজারদর উপেক্ষা করে উচ্চমূল্যে কেনা, অতিরিক্ত মজুদ, আর পরে সেই মূল্যবান সামগ্রী ‘ওয়েস্টেজ’ নামে প্রায় পানির দরে বিক্রি—সব মিলিয়ে যেন এক নিঃশব্দ নাটক, যার মঞ্চে হারিয়ে যায় কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
আরও বিস্ময়কর চিত্র ফুটে ওঠে পিপিই মজুদের ক্ষেত্রে। প্রায় ১২ লাখ সুরক্ষা সামগ্রী, যা হতে পারত হাজারো জীবনরক্ষার ঢাল—তা পড়ে থাকে অবহেলায়, সময়ের সাথে হয়ে ওঠে অকেজো। এই নীরব ক্ষয় যেন শুধু সম্পদের নয়, বরং দায়িত্ববোধেরও।
অভিযোগের তালিকা এখানেই থেমে নেই। অফিস সময়ের আনুষ্ঠানিকতার বদলে খেলাধুলার মাঠে ব্যস্ততা, সরকারি সফরের নামে বিদেশ ভ্রমণ, আর সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার—সব মিলিয়ে যেন ক্ষমতার এক ভিন্ন রূপকথা, যেখানে নিয়ম কেবলই একটি আনুষ্ঠানিক শব্দ।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়—একই ব্যক্তি যখন ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন, আবার সেই পণ্যের মূল্যায়ন কমিটিতেও প্রভাব বিস্তার করেন, তখন স্বচ্ছতার জায়গাটি হয়ে পড়ে প্রশ্নবিদ্ধ। এই দ্বৈত ভূমিকাই যেন তৈরি করেছে অনিয়মের এক অদৃশ্য জাল।
ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিষয়টি যদি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে না দেখা হয়, তাহলে এর প্রভাব কেবল একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তিকেই নড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্যখাতের এই গল্প তাই শুধুই দুর্নীতির নয়—এটি দায়িত্বহীনতার, নীরব ক্ষয়ের, আর এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার গল্প; যেখানে প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্রের এই বিনিয়োগ, এই আস্থা—শেষ পর্যন্ত কার হাতে নিরাপদ?
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও ছোঁয়া লাগতে বিলম্ব হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনই লাগাম টেনে ধরার উপযুক্ত সময়।
