জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে রাজধানীর বাড্ডায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫৪ নম্বর আসামি হয়েও টানা ১৪ মাস ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। অথচ মামলার অভিযোগপত্রে তাকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে নির্দেশ ও অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিগত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে হত্যা করা হয়—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি (মামলা নং-০৫, ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড)। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হলেও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে চিহ্নিত শওকত আলী চৌধুরী রয়েছেন ৫৪ নম্বর আসামির তালিকায়।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত বছরের ৯ নভেম্বর মামলাটি দায়ের হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ৩০২ ধারার মতো গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি এখন পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো জামিন গ্রহণ করেননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরোয়ানাভুক্ত একজন আসামির এভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দেশের আইনশাসনের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং ভবিষ্যতে চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে শওকত আলী চৌধুরী তার বিপুল অর্থবল ও রাজনৈতিক প্রভাব সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন। পরিবারটির দাবি, পুলিশ ‘অবস্থান শনাক্ত করতে না পারার’ যে অজুহাত দিচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে শওকতের প্রকাশ্য চলাফেরার চিত্রের কোনো মিল নেই।
