রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২ হাজার কোটির সম্পদ ‘জলের দামে’ বিক্রি! কক্সবাজারে লুকানো অন্ধকারে দুদকের ঝটিকা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৭, ২০২৬ ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজারের নোনা হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে এক বিস্ময়কর আর শঙ্কাজাগানিয়া অভিযোগ—রাষ্ট্রের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ নাকি বিক্রি হয়ে গেছে মাত্র ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। সংখ্যার এই ভয়ংকর বৈপরীত্য যেন এক নিঃশব্দ লুটের গল্প, যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রভাব, প্রলোভন আর প্রহসনের গন্ধ।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সূত্র ধরে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের তীর ছুটে গেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিনসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দিকে।

অভিযোগের সূত্রপাত- কক্সবাজার সদর উপজেলার এন্ডারসন রোডের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম (সিআইপি) গত ৪ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেন লিখিত অভিযোগ। অভিযোগটি যেন এক বিস্ফোরক দলিল—যেখানে দাবি করা হয়েছে, যোগসাজশের জাল বুনে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তুলে দেওয়া হয়েছে ‘টোকিও মিল জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে, তাও নামমাত্র মূল্যে।

দুদকের তৎপরতা-অভিযোগ পেয়েই নড়ে বসে দুদক। শুরু হয় গভীর অনুসন্ধান—নথির পর নথি খতিয়ে দেখা, হিসাবের অঙ্ক মিলিয়ে দেখা, আর গোপন ফাইলের স্তূপ উল্টেপাল্টে সত্য খোঁজার চেষ্টা। তদন্ত যেন এখন এক থ্রিলারের মতো—যেখানে প্রতিটি কাগজ, প্রতিটি স্বাক্ষর, প্রতিটি সিদ্ধান্তই হতে পারে বিস্ময়কর মোড়।

যে নথি খোঁজা হচ্ছে- তদন্তের স্বার্থে চাওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব দলিল— মাতারবাড়ি পোর্ট এক্সেস রোড, প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী চ্যানেল থেকে কোটি কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন, টোকিও মিল জেভি’- কে দেওয়া প্রশাসনিক অনুমতির রেকর্ড, মোবাইল কোর্টের আদেশ ও জব্দ তালিকা। ড্রেজিং ম্যাটেরিয়াল বিক্রির দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি ও কার্যাদেশ।
প্রতিটি নথিই যেন একেকটি রহস্যের চাবি—যা খুলে দিতে পারে কোটি টাকার অনিয়মের দরজা।

অভিযোগের বিস্তার আরও বহুদূর- আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু এই একটি অভিযোগই নয়—ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরেও দায়িত্ব পালনকালে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীতীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ইজারা ও রাজস্ব আদায়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। যেন এক দীর্ঘ ছায়া, যা অনুসরণ করছে তার কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে।

তদন্ত টিম গঠন- দুদক গঠন করেছে দুই সদস্যের অনুসন্ধান টিম—উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র মজুমদার সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তাদের চোখ এখন নিবদ্ধ প্রতিটি তথ্য-উপাত্তে, প্রতিটি অসামঞ্জস্যে।

উল্লেখ্য যে, প্রশ্ন একটাই—এই ‘জলের দামে বিক্রি’ কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো অদৃশ্য চক্র?
দুদকের অনুসন্ধান যত এগোবে, ততই উন্মোচিত হবে এই রোমাঞ্চকর ঘটনার আদ্যোপান্ত, অথচ শঙ্কাজাগানিয়া কাহিনির নতুন নতুন আপডেট।যা পুরো নেটিজেনদের নজর কারবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।