পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিস্ফোরক অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বহুল আলোচিত এই দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দুদকের কমিশন সভায় মামলার অনুমোদন দেওয়ার পর সংস্থাটির উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, খুব শিগগিরই পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
মহারাজের নামে ৫১ কোটির অবৈধ সম্পদের প্রমাণ
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামেই প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল অঙ্কের সম্পদের অসংগতি শনাক্ত করেছে দুদক। অনুসন্ধান অনুযায়ী—
.স্ত্রী উম্মে কুলসুম – প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা
.ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতি – প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা
.ভাই মো. শামসুদ্দিন – প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা
.মো. সালাউদ্দীন – প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা
.মিরাজুল ইসলাম মিরাজ – প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা
.মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমা – প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা
দুদক বলছে, এসব বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিযুক্তরা।
ক্ষমতার প্রভাবেই গড়া সম্পদের সাম্রাজ্য?
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি ক্রয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সঞ্চয় এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে এসেছে।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে।
আগেই ১,০৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
এর আগেও সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। সেই মামলাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
সরকারের পতনের পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান- গত ৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন-এর পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহারাজ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে, এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
