সংসদে আইন-শৃঙ্খলা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা। ফাইল ফটো
দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বলেছেন, ‘৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন—তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাক চাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হতো না। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত ভালো অবস্থা।
৬ মাসে ৬২ হাজার চাকরি হারানোর দাবি
দেশের জ্বালানি ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না, তখন ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল নির্বাচনে, সে সরকার ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘৯০০-এর ওপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কত দিন থাকবে আল্লাহ মাবুদ জানে।
সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন
স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এ সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে তিনটি কাজের একটি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়।
তার বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার পরিস্থিতিও। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারে মানুষ গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।
ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘চালের দাম, বিশেষ করে মিনিকেট চাল! বলা হয় এটা কেউ খায় না, কেউ কেউ তো খায়! দাম যখন দ্বিগুণ হয়ে যায়, যখন আমরা টিসিবির লাইন দেখি…।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি—এই তিন ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে সংসদে বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
