শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আম্পানের ক্ষত সারানোর প্রকল্পে রফিকুল সিন্ডিকেটের নজিরবিহীন লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অডিটে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম, অসম্পূর্ণ কাজেই শতভাগ বিল উত্তোলন; নিম্নমানের নির্মাণে ধসে পড়ছে সড়ক-সেতু, তবু থামছে না হরিলুট। ফাইল ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দুর্যোগের ক্ষত সারানোর সেই মহাপরিকল্পনাই পরিণত হয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে ঘেরা এক বিতর্কিত প্রকল্পে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের পরও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের লাগাম টানা যায়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে চলেছে অর্থ অপচয়, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে বিল উত্তোলনের অভিযোগ।

স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রকল্পটির ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র। কোথাও শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়েছে, অথচ বাস্তবে কাজের অর্ধেকও শেষ হয়নি। কোথাও কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর গাইডওয়াল কিংবা সড়কের প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল নির্মাণের পরপরই ধসে পড়েছে। আবার প্রকল্পের ডিপিপির শর্ত উপেক্ষা করে পিরোজপুর ও বরিশাল অঞ্চলে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের মধ্যেই প্রকল্পের সাবেক পরিচালক রফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক মামলা করেছে।

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই ছয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ২০২০ সালে গ্রহণ করা হয় ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্প। সরকারের প্রচলিত পরিকল্পনা নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা যাচাই অথবা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অডিট ও সংশ্লিষ্ট নথিতে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণকাজে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে শুরু থেকেই নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কাজ পরিদর্শন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমে একের পর এক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মান্দুরা বাজার থেকে ভরতখালী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়। অথচ বাস্তবে মাত্র আধা কিলোমিটার কাজ করেই ৫২ লাখ টাকার সম্পূর্ণ বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের এমন হিসাব প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বরাদ্দ ৫ হাজার ৯০৫ কোটি, মেয়াদ বাড়ল ২০২৮ সাল পর্যন্ত

প্রকল্পের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) মোট ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ খাতে ৩ হাজার ৫৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের কাজ, গুণগত মান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের অবসান হয়নি। বরং অডিট প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পরও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের আট বিভাগের ৫৫ জেলার ৩৫৫টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নির্মাণের পরই সড়কে গর্ত, ধসে পড়ছে সেতুর গাইডওয়াল

প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়েও অডিট প্রতিবেদনে গুরুতর আপত্তি তোলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের কার্পেটিং স্তরে প্রাক্কলিত পরিমাপের তুলনায় পাতলা স্তর এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। যথাযথভাবে রোলার বা ভাইব্রেটর দিয়ে কম্প্যাকশন না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের সিলকোট ও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে, ধসে পড়ছে বিটুমিনের স্তর।

অথচ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পুনর্নির্মিত সড়ক ও সেতুর স্থায়িত্ব ন্যূনতম তিন বছর নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোর ভাঙন দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অডিট পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ১৪টি অডিট আপত্তি এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ২২ শতাংশ স্কিম বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণের কারণে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসংগতি তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ৪৮৮টি স্কিমের কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণকাজ রয়েছে। পাশাপাশি শত শত স্কিমের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে আংশিক সম্পন্ন হয়ে পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ শেষ করা না গেলে প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন নিয়ে আরও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

আইএমইডির প্রতিবেদনেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনেও প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ধীরগতি, বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটির নিয়মিত সভা না হওয়ার বিষয়গুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২০ মে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও কালভার্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামো পুনর্বাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি)। কিন্তু একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ের অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে।

কালভার্ট নির্মাণে পিছিয়ে, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়ক ও কালভার্ট পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি রয়েছে। বিশেষ করে কালভার্ট নির্মাণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত কম। ফলে সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতিতে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

পুরো প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুই কোটি টাকার সেতু অসমাপ্ত, ঠিকাদারকে জরিমানা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত রাখার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামস ইঞ্জিনিয়ারিংকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দরপত্র বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে বরিশাল ও রংপুরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও কাজ অসম্পূর্ণ রাখা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নবনির্মিত সড়ক ও সেতুর গাইডওয়াল ধসে পড়ার ঘটনাও নির্মাণকাজের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম নদীর তীব্র স্রোতকে গাইডওয়াল ধসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

ডিপিপি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়, ১২৪ কোটি টাকার প্রশ্ন

প্রকল্পের ডিপিপিতে নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই বিগত অর্থবছরগুলোতে বিধিবহির্ভূতভাবে মোট ১২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত ছাড় ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পিরোজপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ডিপিপির শর্ত উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তাই নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে।

সাবেক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

এই প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকার জাপান গার্ডেন সিটিতে ফ্ল্যাট কেনাসহ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী মোসাম্মৎ কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে এসব মামলা ও অভিযোগের সঙ্গে প্রকল্পের প্রতিটি অনিয়মের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। একইভাবে প্রকল্পের সাবেক পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালীন সিদ্ধান্ত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, বিল অনুমোদন এবং প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে বর্তমান প্রকল্প পরিচালক আহসান কবির অডিট আপত্তির কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কিছু অডিটকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্যের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছেন। তবে অডিটে উত্থাপিত আর্থিক ও কারিগরি আপত্তিগুলোর নিষ্পত্তি এবং অনিয়মের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

দুর্যোগের অর্থ লুটপাটের অভিযোগে দায়ীদের বিচারের দাবি

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের নামে সরকারি অর্থের অপচয় এবং অনিয়মের অভিযোগকে গুরুতর রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রকল্পে কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই শুধু অডিট আপত্তি উত্থাপন বা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণ, অতিরিক্ত অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

প্রশ্ন উঠেছে—প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে এত অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হয়েছে? দুর্যোগের ক্ষত সারানোর নামে সরকারি অর্থের অপচয় ও লুটপাটের অভিযোগের অবসান ঘটবে কবে? নাকি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগও নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।