শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এ সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি করেছে। তারা এসব সিদ্ধান্তকে “শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী” উল্লেখ করে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায়।
ছাত্রদলের উত্থাপিত দাবিসমূহ হলো—
১. বাধ্যতামূলক কোর্সের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি
সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্বের ন্যায় কোর্স দুটি নন-ক্রেডিট হিসেবে বহাল রাখা হলে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর স্বাচ্ছন্দ্য, ন্যায্যতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হবে।
২. আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ৫০% কোটা বাতিলের দাবি
আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়। ছাত্রদল নেতারা বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩. প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের আহ্বান
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এনালগ পদ্ধতির কারণে ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে মূল ও সাময়িক সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, সেমিস্টার ও বার্ষিক নম্বরপত্র উত্তোলনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘসূত্রিতা ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণেও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে ক্যাম্পাসে অসন্তোষ আরও বাড়বে। তারা শিক্ষার্থীবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
