কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড | বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ, তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই তিন কৃষক পরিবারের সাজানো সংসার। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুরের বনিপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতঘর ও ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় পরিবারগুলো। আগুন লাগার পর সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করায় ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। চৌরঙ্গী বিদ্যুৎ স্টেশনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবায়রা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুরের বনিপুর গ্রাম। একসময় যে ঘরগুলোতে ছিল তিন কৃষক পরিবারের সুখ-স্বপ্ন আর সঞ্চয়ের গল্প, এখন সেখানে শুধুই পোড়া টিন, ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্টের আহাজারি আর শোকের মাতম।সব কিছু হারানোর বেদনায় শুধু তাড়িত করছে।
তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ছয়টি বসতঘর। মুহূর্তের আগুনে নিঃস্ব হওয়ার পথে তিনটি কৃষক পরিবার। ঘরবাড়ির সঙ্গে পুড়ে গেছে আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। সব হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি পরিবারগুলো। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, আগুন লাগার পর দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হতো। তাদের দাবি, চৌরঙ্গী বিদ্যুৎ স্টেশনের সংশ্লিষ্টদের সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই আগুনের ভয়াবহতা বেড়েছে।
এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যদুবায়রা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনিসুর রহমান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মালেক।
তদন্তের আশ্বাস বিদ্যুৎ বিভাগের
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমারখালীর চৌরঙ্গী বিদ্যুৎ স্টেশনের সহকারী প্রকৌশলী সরদার। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা কার্যালয়ের এজিএম (প্রশাসন) ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) একইভাবে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তবে তদন্তের ফলাফল, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দায় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় সর্বস্বান্ত পরিবারগুলো
তিনটি কৃষক পরিবারের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস দিলেই হবে না। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং তাদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
একটি আগুন কেড়ে নিয়েছে তিন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের স্বপ্ন, সঞ্চয় আর বছরের পর বছরের পরিশ্রম। এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, কোথায় পাবেন নতুন আশ্রয়?
আবার ছয়টি বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর নিঃস্বতার শঙ্কায় তিন কৃষক পরিবার। প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা, আর সেই ক্ষতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ।
এখন তদন্তে কি বেরিয়ে আসবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ? ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কি পাবে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সহায়তা? নাকি ধ্বংসস্তূপের পাশেই অনিশ্চয়তার জীবন কাটাতে হবে তাদের?না বিদ্যুৎ বিভাগের সান্ত্বনাই কি শুধু আশ্বাস? এমনটাই ভাবিয়ে তুলেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।
