শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পাবনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিখোঁজের সাত দিন পর পুকুর থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২। ছবি : সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কুলুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। হামলায় কেউ আহত হননি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর গত বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে ওই স্কুল শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মুদি দোকানি মো. মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর ভাড়াটিয়া মো. ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ক্ষুব্ধ জনতার হামলা, পরিবারকে সরিয়ে নিল পুলিশ

ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা সংগঠিত হয়ে মোস্তফার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও ক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

তিনি বলেন, উত্তেজিত জনতা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। হামলায় কেউ আহত হননি।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকারের দাবি পুলিশের

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, স্কুল শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেপ্তার মোস্তফার বিরুদ্ধে বিকৃত আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, মোস্তফা দোকানে আসা নারীদের বিভিন্নভাবে ছবি তুলে রাখতেন। ওই শিশুটি তাঁর দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তারও একাধিক ছবি তুলে মোবাইল ফোনে রেখেছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে কৌশলে ঘরে নিয়ে মোস্তফা ও ইয়াছিন ধর্ষণ করে। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ঘরেই রাখা হয়।

দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর মরদেহ পুকুরে ফেলার দাবি

পুলিশ সুপার আরও জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে এবং ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অভিযুক্তরা মরদেহ বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কুকুর তাড়া করলে তারা বস্তাটি পাশের পুকুরে ফেলে দেয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তদন্তের একপর্যায়ে মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে আটক করা হয় এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।